
নিজস্ব প্রতিবেদক, মুন্সিগঞ্জ | ১২ এপ্রিল, ২০২৬
মুন্সিগঞ্জে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের অভিযুক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে জেলার সংবাদকর্মী সমাজ। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে প্রধান সড়কে বিশাল বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।
আলটিমেটাম ও সংবাদ বর্জনের ঘোষণা
মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা অভিযুক্ত কর্মচারীকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে বরখাস্ত করার আলটিমেটাম দিয়েছেন। অন্যথায় মুন্সিগঞ্জ প্রশাসন, সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সংবাদ প্রকাশ বন্ধ রাখা এবং ‘কলমবিরতি’র ঘোষণা দেন সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মুন্সিগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের স্টেনোগ্রাফার মো. মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণের ভিডিওসহ সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছিল। এর জেরে এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার ও দৈনিক মুন্সিগঞ্জের সময়-এর সম্পাদক মইনুদ্দিন আহম্মেদ সুমন এবং দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিনিধির জেলা প্রতিনিধি আবু সাঈদ দেওয়ান সৌরভের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়।
বক্তাদের অভিযোগ
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত মিজানুর রহমান দীর্ঘ ৩৮ বছর ধরে একই কর্মস্থলে থেকে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছেন। জেলার বিভিন্ন ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তার কাছে জিম্মি হয়ে আছে।
-
আতিকুর রহমান টিপু (সভাপতি, মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাব): “ঘুষের ভিডিও প্রকাশের এক মাস পার হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আগামী সাত দিনের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে আমরা কঠোর অবস্থানে যাব।”
-
গোলজার হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, মুন্সিগঞ্জ প্রেসক্লাব): “একজন চিহ্নিত দুর্নীতিবাজকে বাঁচাতে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হচ্ছে। দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না হলে আমরা প্রশাসনের সব সংবাদ বর্জন করব।”
উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সহসভাপতি মাহাবুব আলম লিটন, জসিম উদ্দিন দেওয়ান, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিবুল হাসান জুয়েল, কোষাধ্যক্ষ মুহাম্মদ সাইফুর রহমানসহ জেলার সিনিয়র সংবাদকর্মীরা। জেলার সচেতন নাগরিক সমাজও এই মানববন্ধনে অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
উপস্থিত সংবাদকর্মীরা জানান, দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথ্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব, আর সেই কণ্ঠরোধ করতেই এই মিথ্যা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।