
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বামেন্ডা, ক্যামেরুন প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের দামামা এবং কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র প্রতিযোগিতার বিরুদ্ধে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন পোপ লিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আক্রমণের কয়েক দিনের মাথায় পোপ বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতাদের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “মুষ্টিমেয় কিছু স্বৈরশাসক বর্তমানে বিশ্বজুড়ে ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এবং নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য তারা ধর্মের পবিত্রতাকে ব্যবহার করছে।”
আফ্রিকা সফরের অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার ক্যামেরুনের সংঘাতবিক্ষুব্ধ শহর বামেন্ডায় এক বিশাল জনসভায় পোপ এই মন্তব্য করেন। প্রায় এক দশকের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সাক্ষী এই জনপদে দাঁড়িয়ে পোপ লিও বলেন, “যুদ্ধের হোতারা এই সত্য দেখেও না দেখার ভান করেন যে, ধ্বংস করতে মাত্র এক মুহূর্ত লাগে, কিন্তু পুনর্গঠনে পুরো এক জীবনও যথেষ্ট নয়।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিশ্বনেতারা হত্যা আর ধ্বংসলীলায় বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছেন, অথচ শিক্ষা ও চিকিৎসার জন্য ন্যূনতম সম্পদ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
গত রোববার থেকে ট্রুথ সোশ্যালে পোপকে লক্ষ্য করে একের পর এক আক্রমণাত্মক পোস্ট দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পোপকে ‘পররাষ্ট্রনীতিতে ভয়াবহ’ এবং ‘অপরাধের বিষয়ে দুর্বল’ বলে কটূক্তি করেন। এমনকি নিজেকে যিশুর সঙ্গে তুলনা করে ছবিও পোস্ট করেন ট্রাম্প। এর জবাবে ক্যামেরুনের সভা থেকে পোপ লিও সরাসরি নাম না নিলেও স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “ধিক্কার জানাই তাদের, যারা নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে ঈশ্বরের নাম ব্যবহার করে পবিত্রতাকে আবর্জনার স্তরে নামিয়ে আনে।”
ইরান ও আমেরিকার মধ্যে শুরু হওয়া যুদ্ধের ঘোর বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন পোপ লিও। এর আগে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইরান যুদ্ধের পক্ষে খ্রিষ্টীয় যুক্তি তুলে ধরলে পোপ বলেছিলেন, “যাদের হাত রক্তে রঞ্জিত, ঈশ্বর তাদের প্রার্থনা কবুল করেন না।” পোপের এই বলিষ্ঠ অবস্থানের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন আর্চবিশপ অব ক্যান্টারবুরি সারাহ মুলালিও।
রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পোপ লিও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের ব্যক্তিগত আক্রমণে তিনি বিচলিত নন এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে সত্য কথা বলা থেকে তিনি পিছপা হবেন না। তাঁর মতে, যারা যুদ্ধ জায়েজ করতে ধর্মীয় বয়ান তৈরি করছে, তারা আসলে এক ‘উল্টে যাওয়া পৃথিবী’র প্রতিনিধিত্ব করছে।
আফ্রিকার কোটি কোটি ক্যাথলিক ধর্মাবলম্বীদের মাঝে পোপের এই অবস্থান কেবল একটি ধর্মীয় বক্তব্য নয়, বরং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এক শক্তিশালী প্রতিবাদ হিসেবে দেখা হচ্ছে।