
সাংগঠনিক সভায় সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী ঘোষণা আব্দুল আহাদ খান জামালের
সিলেট প্রতিনিধি: মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়ে চলছে সিলেট জেলা বিএনপি। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবি উঠেছে দলের সাংগঠনিক সভায়। একইসঙ্গে দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের নতুন নেতৃত্বে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
বুধবার বিকেলে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় এসব দাবি উঠে আসে।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে আব্দুল আহাদ খান জামাল নিজেকে সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ছিলেন এবং দীর্ঘদিন ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাদের সাংগঠনিকভাবে মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। গত ১৭ বছর তিনিও দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করে কাজ করেছেন বলে বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
আব্দুল আহাদ খান জামাল আরও বলেন, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি সিলেট-৩ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। ওই আসনে এম এ মালেককে মনোনয়ন দেওয়া হয় এবং তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। একইভাবে ব্যারিস্টার সালামও ওই আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বলে সভায় উল্লেখ করেন জামাল।
দলের জন্য ত্যাগ স্বীকারের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ব্যারিস্টার সালামকে দল মূল্যায়ন করেছে। পাশাপাশি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় তাকে সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, বিগত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে যারা সক্রিয় ছিলেন এবং দলের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও সাংগঠনিক ভূমিকা বিবেচনায় নিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করার আহ্বানও জানান তারা।
সাংগঠনিক সভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আব্দুল আহাদ খান জামালই প্রথম নিজেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন।
সভায় মেয়াদোত্তীর্ণ সিলেট জেলা বিএনপির নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়। স্থানীয় নির্বাচন সামনে রেখে দ্রুত আহ্বায়ক কমিটি গঠনের দাবিও তোলা হয়। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয়ভাবে একক প্রার্থী দেওয়ার আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ। সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় নির্বাচনে নতুন মুখ এবং দীর্ঘদিন রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার কথাও বলা হয়।
এদিকে আব্দুল আহাদ খান জামালের প্রার্থিতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সিলেট জেলা বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশ। তাদের ভাষ্য, খান জামাল দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন।
তৃণমূলের কয়েকজন নেতাকর্মী বলেন, দলের দুঃসময়ে যারা মাঠে ছিলেন, তাদের মূল্যায়ন করা হলে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। তাদের দাবি, আব্দুল আহাদ খান জামাল নেতাকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা করেন এবং বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন।
তাদের আরও দাবি, দলীয় রাজনীতিতে বিভিন্ন মত বা গ্রুপ থাকলেও জামালের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের যোগাযোগ রয়েছে। এ কারণে তৃণমূলের একটি অংশ তাকে সম্ভাব্য সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছে।
তবে নতুন কমিটি গঠন ও নেতৃত্ব নির্বাচনের বিষয়ে দলের কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে বলে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।