৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

মৌলভীবাজারে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

admin
প্রকাশিত ০৪ এপ্রিল, শনিবার, ২০২৬ ২১:৩৩:৫০
মৌলভীবাজারে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের অনুদান বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ: তালিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

স্টাফ রিপোর্টার, মৌলভীবাজার | ৪ এপ্রিল, ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের অনুদান বিতরণকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অনুদান প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব, যাচাই-বাছাইয়ে অনিয়ম এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আর্থিকভাবে স্বচ্ছলদের সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের ৩৫৭ জন সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের মাঝে প্রায় ২ কোটি ৩ লাখ টাকার অনুদান বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে মৌলভীবাজার জেলার ১১ জন সাংবাদিককে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক প্রদান করেন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল বাছির।

প্রকৃত বঞ্চিতদের ক্ষোভ

তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, ক্যানসারসহ জটিল রোগে আক্রান্ত এবং প্যারালাইজড অবস্থায় থাকা একাধিক প্রকৃত দুস্থ সাংবাদিক তালিকায় স্থান পাননি। উল্টো এলাকায় স্বচ্ছল হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের নাম আসায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

শ্রীমঙ্গলের সাংবাদিক মোঃ আমজাদ হোসেন বাচ্চু ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমি একটি জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কাজ করছি, অথচ তালিকায় আমার পত্রিকার প্রতিনিধি হিসেবে এমন একজনের নাম দেওয়া হয়েছে যাকে সংশ্লিষ্ট অফিসই চেনে না। এটি অত্যন্ত রহস্যজনক।”

রাজনৈতিক নেতার অনুদান গ্রহণ নিয়ে বিতর্ক

সবচেয়ে বেশি বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে একজন শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতার নাম তালিকায় আসায়। অভিযোগ উঠেছে, অসুস্থ ও অস্বচ্ছল সাংবাদিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি সহায়তা গ্রহণ করেছেন মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির সদস্য বকসী মিছবা উর রহমান। তিনি দৈনিক স্বাধীনতা চেতনা পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

রাজনৈতিক পরিচয়ে এমন অনুদান গ্রহণকে অনৈতিক ও প্রকৃত প্রাপকদের অধিকার হরণ হিসেবে দেখছেন পেশাদার সাংবাদিকরা। প্রবীণ এক সাংবাদিক মন্তব্য করেন, “দুস্থ সাংবাদিকদের নামে স্বচ্ছলদের অনুদান দেওয়া এই মহান পেশার জন্য অপমানজনক।”

তদন্তের দাবি

সাংবাদিক সমাজ ও সচেতন মহল এই ‘অদৃশ্য তালিকার’ পেছনের কারিগরদের খুঁজে বের করতে এবং পুরো প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, সরেজমিন যাচাই ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা না হলে সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের মতো মানবিক উদ্যোগগুলো প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং প্রকৃত বঞ্চিতরা আরও প্রান্তিক হয়ে পড়বে।

অভিযুক্ত পক্ষ বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


পরামর্শ: এই সংবাদটি কোনো অনলাইন পোর্টাল বা পত্রিকার জন্য ব্যবহার করতে চাইলে স্থানীয় জেলা প্রশাসক বা সাংবাদিক ইউনিয়নের কোনো নেতার একটি উদ্ধৃতি (Quote) যুক্ত করলে প্রতিবেদনের ভারসাম্য আরও বাড়বে।