নিজস্ব প্রতিবেদক, চাঁদপুর | ১৩ মার্চ, ২০২৬
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের কোনো সুযোগ নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের প্রশ্নই ওঠে না, বরং যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর করা হচ্ছে।
আজ শুক্রবার চাঁদপুরের কচুয়ায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় এক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
যাচাই-বাছাইয়ের তিন স্তর
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ম্যানেজিং কমিটির প্রার্থীদের যোগ্যতা নিশ্চিত করতে কয়েক ধাপের প্রশাসনিক নজরদারি থাকবে।
-
প্রথম ধাপ: প্রাথমিক যাচাই-বাছাই করবেন সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)।
-
দ্বিতীয় ধাপ: এরপর তা যাচাই করবেন জেলা প্রশাসক (ডিসি)।
-
চূড়ান্ত ধাপ: ডিসি বাছাইকৃত তিনটি নাম সংশ্লিষ্ট বোর্ডে পাঠাবেন অনুমোদনের জন্য।
শিক্ষানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি
মন্ত্রী বলেন, “আমরা চাই উপযুক্ত শিক্ষিত, সমাজসেবী ও প্রকৃত শিক্ষানুরাগীরাই কমিটির সঙ্গে যুক্ত হোক। অনেক ক্ষেত্রে যারা ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার বা বিশেষ অবদান রাখা শিক্ষানুরাগী, তারা হয়তো প্রথাগত ডিগ্রিধারী নন। এই ধরনের যোগ্য ব্যক্তিদের কীভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, তা নিয়ে আমরা এমপি ও প্রধানমন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব।” তবে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করেন যে, সাধারণ প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলের কোনো নির্দেশনা কোথাও দেওয়া হয়নি।
রাস্তায় দাঁড়িয়ে অতিথি বরণ নিষিদ্ধ
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নির্দেশনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “শিক্ষার্থীদের রাস্তায় দাঁড় করিয়ে অতিথিকে শুভেচ্ছা জানানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।” শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানের বিশদ
কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় বিএনপির মহিলা দলের সহ-সভানেত্রী নাজমুন নাহার বেবী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাবৃন্দ। একাডেমিক সুপারভাইজার সোহেল রানা অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।