
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফুটবল ইতিহাসের কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যুকে ঘিরে আর্জেন্টিনায় নতুন করে বিচারকাজ শুরু হয়েছে। বিচারকের নৈতিক স্খলনজনিত এক কেলেঙ্কারির কারণে আগের বিচারপ্রক্রিয়া বাতিল হওয়ার এক বছর পর আজ থেকে নতুন করে এই আইনি কার্যক্রম শুরু হলো।
১৯৮৬ বিশ্বকাপ জয়ের নায়ক ম্যারাডোনা ২০২০ সালের নভেম্বরে ৬০ বছর বয়সে বুয়েনস আইরেসের টিগ্রেতে মারা যান। মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর সুস্থ হওয়ার প্রক্রিয়া চলাকালীন হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে তাঁর চিকিৎসায় নিয়োজিত দলের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ ওঠে।
এর আগে শুরু হওয়া বিচারপ্রক্রিয়াটি আড়াই মাস চলার পর ২০২৫ সালের মে মাসে বাতিল করা হয়। তৎকালীন বিচারক জুলিয়েটা মাকিন্তাচ এই মামলা কেন্দ্রিক একটি তথ্যচিত্রে (ডকুমেন্টারি) যুক্ত থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে নৈতিক নিয়ম ভঙ্গের দায়ে অভিশংসন আনা হয়, যার ফলে পুরো কার্যক্রম থমকে যায়।
নতুন করে শুরু হওয়া এই বিচারে ফুটবল তারকার শেষ দিনগুলোর সেবা ও চিকিৎসার চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হবে:
অভিযুক্ত: চিকিৎসক, মনোবিজ্ঞানী ও নার্সসহ মোট সাতজন চিকিৎসাকর্মী।
অভিযোগ: তাঁদের বিরুদ্ধে ‘সম্ভাব্য ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড’ (Eventual Intent) বা গুরুতর অবহেলার অভিযোগ আনা হয়েছে।
সাক্ষী: বিচারে প্রায় ১২০ জন ব্যক্তির সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
সম্ভাব্য সাজা: অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের ৮ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, ম্যারাডোনার পুনর্বাসনের সময় চিকিৎসায় চরম অবহেলা করা হয়েছিল। অন্যদিকে, আসামিপক্ষ এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলছে, দীর্ঘদিন মাদক ও অ্যালকোহলের সঙ্গে লড়াই করা ম্যারাডোনার মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছে।
ম্যারাডোনার সন্তানদের আবেগঘন সাক্ষ্য এবং কোটি ভক্তের আকুলতার মাঝে এই বিচারপ্রক্রিয়াটি আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্বজুড়ে ফুটবল প্রেমীরা তাকিয়ে আছেন এই মহানায়কের মৃত্যুর সঠিক কারণ ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয় কি না, তা দেখার জন্য।