
নিজস্ব প্রতিবেদক | যশোর
যশোরের বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ মামলার আসামি মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। শনিবার রাতে শহরতলির ঝুমঝুমপুর মাস্টারপাড়া এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার সন্ধ্যায় আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
মনিরুল ইসলাম শহরের ষষ্ঠীতলাপাড়ার আব্দুল খালেকের ছেলে। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দে জানান, মনিরুলের বিরুদ্ধে হত্যা ও অস্ত্রসহ মোট ১৭টি মামলা রয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব আহম্মেদ ইমন তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করে তাঁকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এই নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। তারা হলেন: ১. পরশ (নিহতের জামাতা ও মূল পরিকল্পনাকারী) ২. সাগর (সহযোগী) ৩. ত্রিদিব ওরফে মিশুক (মূল শুটার) ৪. শাহীন কাজী ৫. মনিরুল ইসলাম
আসামিদের জবানবন্দি থেকে জানা গেছে, এই হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন নিহতের জামাতা পরশ। শ্বশুরকে হত্যার জন্য তিনি ১৫ লাখ টাকার চুক্তি করেছিলেন।
চুক্তির বিবরণ: ঘটনার দিন ৫ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। বিকেলে পরশ শুটার মিশুককে ১ লাখ টাকা ও একটি পিস্তল সরবরাহ করেন।
বাকি টাকা: হত্যার পর রাতেই আরও ৪ লাখ টাকা দেওয়ার কথা ছিল, যা পরশ অন্য একজনের কাছ থেকে ধার করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। অবশিষ্ট ১০ লাখ টাকা সুবিধাজনক সময়ে দেওয়ার চুক্তি হয়।
অংশগ্রহণকারী: এই মিশনে মোট ১০ থেকে ১২ জন সরাসরি জড়িত ছিল বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেনকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। নিহত আলমগীর শংকরপুর এলাকার ইন্তাজ চৌধুরীর ছেলে। ঘটনার পর তাঁর স্ত্রী শামীমা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত ৫ জনের মধ্যে ৩ জনই ইতোমধ্যে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।