যুক্তরাজ্য বিএনপি – যে কোনো মুহূর্তে আসছে নতুন চমক – নতুন কমিটি
আবুল বাশার :: দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি দিয়েই চলছে যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যক্রম। গত ১৭ বছর ধরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবনযাপন করায়, বহির্বিশ্বে যুক্তরাজ্য বিএনপি দলটি বিশেষ মর্যাদা অর্জন করেছে।
২০১৮ সালে কাউন্সিলের মাধ্যমে এম এ মালেক সভাপতি ও কয়ছর এম আহমদ সাধারণ সম্পাদক করে দুই বছরের জন্য কমিটি অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় বিএনপি। তবে দুই বছরের মেয়াদ শেষ হলেও আন্দোলন-সংগ্রামের অজুহাতে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিই যুক্তরাজ্য বিএনপির কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতনের পর এমপি নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক ও সাধারণ সম্পাদক কয়ছর এম আহমদ স্থায়ীভাবে দেশে অবস্থান করছেন। এর ফলে যুক্তরাজ্যে দলের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক অনুপস্থিত থাকলে প্রটোকল অনুসারে সিনিয়র সহ-সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদককে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার বিধান থাকলেও এতদিন কেউ সেই পদে নিযুক্ত না হওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, ৫ আগস্টের পর থেকে যুক্তরাজ্যে পলাতক আওয়ামী ঘরানার ব্যক্তিরা সক্রিয় কর্মসূচি পালন করলেও, যুক্তরাজ্য বিএনপি তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে। তৃণমূল নেতারা এর জন্য দায়ী করছেন বর্তমান মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ও তাদের নিষ্ক্রিয় নেতৃত্বকে।
দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ নির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে ডিসেম্বরের মধ্যেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশে ফেরার আগেই তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সাংগঠনিক গতি ফিরিয়ে আনতে এবং নতুন নেতৃত্ব গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন।
একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, নতুন কমিটি গঠনের খসড়া তালিকা ইতিমধ্যে তারেক রহমানের টেবিলে পৌঁছেছে। যে কোনো মুহূর্তে যুক্তরাজ্য বিএনপির “সুপার ফাইভ” কাঠামোর একটি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।
সম্ভাব্য সভাপতি পদে যাদের নাম আলোচনায়
জানা গেছে, আসন্ন কমিটিতে সম্ভাব্য সভাপতি হিসেবে যাদের নাম দলীয় ফোরাম অথবা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের টেবিলে রয়েছে, তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন —
শাহ আকতার হোসেন (টুটুল) — যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি,
আকতার হোসেন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি,
আবুল কালাম আজাদ — সিনিয়র সহ-সভাপতি, এবং
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ এম. মুফিদ আহমেদ — যুক্তরাজ্য বিএনপি কনভেনিং কমিটির সাবেক সিনিয়র সদস্য।
সেক্রেটারি পদে বিবেচনাধীন ব্যক্তিবর্গ
সেক্রেটারি পদে আলোচনায় আছেন —
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খসরুজামান খসরু,
যুক্তরাজ্য যুবদলের সাবেক সভাপতি নাসিম আহমদ চৌধুরী,
যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ খান, এবং
সাবেক ছাত্রনেতা শহিদুল ইসলাম মামুন।
তৃণমূলের প্রত্যাশা ও আগামীর চ্যালেঞ্জ
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর পলাতক আওয়ামী নেতারা যুক্তরাজ্যে সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী নানা ষড়যন্ত্র ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।
আগামী দিনে তাদের এই অপতৎপরতা মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন নেতৃত্ব কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিই এখন দলীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের আলোচনার মূল বিষয়।
দলীয় এক নেতা বলেন —
“যারাই যুক্তরাজ্য বিএনপির নতুন নেতৃত্বে আসবেন, তাদেরকেই আওয়ামী ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দিয়ে সংগঠনকে ঐক্যবদ্ধ ও কূটনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে হবে।”