যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে গাজা শাসনসংক্রান্ত তাদের উত্থাপিত খসড়া প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা শান্তি পরিকল্পনাকে শক্তিশালী করতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াশিংটন জানায়। প্রস্তাব অননুমোদিত হলে ফিলিস্তিনিদের জন্য ‘গুরুতর পরিণতি’ তৈরি হতে পারে বলেও সতর্ক করেছে তারা।
অন্যদিকে রাশিয়া বিষয়টি ঘিরে নিরাপত্তা পরিষদে নিজেদের একটি বিকল্প প্রস্তাব উত্থাপন করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের মূল দিক
-
গাজায় ২০২৭ সালের শেষ পর্যন্ত দুই বছরের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন শাসনব্যবস্থা ‘বোর্ড অব পিস’ গঠনের প্রস্তাব।
-
ওই পরিষদের চেয়ারম্যান হবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
-
গাজায় একটি অস্থায়ী আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী (আইএসএফ) গঠনের প্রস্তাব, যার সদস্য হবে ২০ হাজারের মতো।
-
এই বাহিনী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করবে, বেসামরিক মানুষ সুরক্ষায় কাজ করবে এবং মানবিক করিডর রক্ষা করবে।
-
আইএসএফ ইসরায়েল, মিসর ও নবগঠিত ফিলিস্তিনি পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয়ে সীমান্ত সুরক্ষা ও গাজাকে সামরিকীকরণমুক্ত রাখতে ভূমিকা রাখবে।
-
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে—এই বাহিনীতে তারা কোনো সেনা পাঠাবে না।
-
ইন্দোনেশিয়া, ইউএই, মিসর, কাতার, তুরস্ক ও আজারবাইজানের সঙ্গে যোগদানে আলোচনা হয়েছে, তবে হামাসের সঙ্গে সংঘর্ষের ঝুঁকায় দেশগুলো দ্বিধায় রয়েছে।
ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রসঙ্গ
খসড়ায় বলা হয়েছে,
রাশিয়ার পাল্টা প্রস্তাব
রাশিয়া তাদের প্রস্তাবে দাবি করেছে—
-
নিরাপত্তা পরিষদ যেন একটি “ভারসাম্যপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও ঐক্যবদ্ধ অবস্থান” নেয়।
-
লক্ষ্য হবে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা।
পটভূমি
৮ অক্টোবর ট্রাম্প জানান, ইসরায়েল ও হামাস তাঁর প্রচারিত ২০ দফার শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়েছে। এতে দুই বছরের সংঘাত থেমে যায়, যে সংঘাতে গাজায় অন্তত ৬৯ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বন্দি বিনিময় ও আংশিক সেনা প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে কিছু মানবিক সহায়তাও প্রবেশ করছে।
যদিও যুদ্ধবিরতি চলছে, ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে, যাতে আরও ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছে।
ওয়াশিংটনের সতর্কবার্তা
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে—
তাদের প্রস্তাব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হলে গাজার ফিলিস্তিনিদের জন্য “গুরুতর, বাস্তব ও এড়ানো অসম্ভব” পরিণতি সৃষ্টি হতে পারে।
তাদের ভাষায়, এটি “মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত”।