
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের হাতে এক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীর নিগৃহীত হওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আলিয়া রহমান নামে ৪৩ বছর বয়সী ওই নারীকে তার গাড়ির জানালা ভেঙে অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে টেনে-হিঁচড়ে বের করে নিয়ে যায় মুখোশধারী এজেন্টরা।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ফেডারেল এজেন্টরা আলিয়া রহমানের গাড়ির জানালা ভেঙে তাকে জোরপূর্বক বের করার চেষ্টা করছে। এ সময় আলিয়া চিৎকার করে বলছিলেন যে, তিনি ‘শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন’ এবং ‘ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন’। কিন্তু এজেন্টরা তার কোনো কথা না শুনে তাকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যায়। আইসিই-এর দাবি, তিনি ওই এলাকায় একটি অভিবাসন বিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে আইসিই-এর গাড়ি চলাচলে বাধা দিয়েছিলেন।
আলিয়া রহমান একজন উচ্চশিক্ষিত সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রযুক্তিখাতের পরিচিত মুখ। তবে এর বাইরেও তার বড় পরিচয় তিনি একজন এলজিবিটি (LGBT) ও বর্ণবৈষম্যবিরোধী অধিকারকর্মী।
পেশা ও শিক্ষা: তিনি পারদু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং একজন সনদপ্রাপ্ত সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ। তিনি একাধিক শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশলী ও ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেছেন।
অধিকার আন্দোলন: গত এক দশক ধরে তিনি ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া তিনি পুলিশ কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতির পক্ষে কাজ করা ‘নিউ আমেরিকা ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের’ একজন ফেলো ছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নিলেও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পরপরই পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে চলে আসেন আলিয়া। শৈশবে বাংলাদেশের বিপ্লবী পরিবেশ এবং পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন তাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। পরবর্তী সময়ে নিজের জেন্ডার পরিচয় (জেন্ডারকুইয়ার) এবং সামাজিক বাস্তবতার কারণে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলায় তার দুই চাচাতো ভাই নিহত হওয়ার ঘটনা তাকে যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণবৈষম্য ও সামাজিক বিচার নিয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে যে, আলিয়া রহমান একটি আবাসিক এলাকায় অভিবাসন বিরোধী কার্যক্রমে বাধা দিয়েছেন। তবে বিক্ষোভকারীদের দাবি, এজেন্টদের এই আচরণ ছিল অত্যন্ত অমানবিক ও নোংরা। এর আগে এক দশক আগে আলিয়া রহমানের বিরুদ্ধে ছোটখাটো কিছু আইনি অভিযোগ (যেমন মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো) থাকলেও সেগুলোর সঙ্গে বর্তমান ঘটনার কোনো যোগসূত্র নেই বলে মনে করছেন তার সমর্থকরা।
এই ঘটনার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং অধিকারকর্মী সংগঠনগুলোর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই একে ‘বর্ণবাদী ও মানবাধিকার লঙ্ঘন’ হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।