যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ফলে বৈশ্বিক শস্য ও তেলবীজ বাণিজ্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে চলেছে। ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে কৃষিপণ্য আমদানির পরিমাণ বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে। এ পদক্ষেপ অস্ট্রেলিয়া, কানাডা ও রাশিয়ার মতো ঐতিহ্যবাহী সরবরাহকারীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ নিজেদের রপ্তানি পণ্যে শুল্ক কমানোর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি শস্য ও কৃষিপণ্য আমদানি করবে। আঞ্চলিক ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন ও থাইল্যান্ডও মার্কিন পণ্যের ক্রয় বাড়াতে পারে।
📊 মূল দিকগুলো:
-
ইন্দোনেশিয়া: গত জুলাই থেকে প্রায় ২.৫ লাখ টন মার্কিন গম কিনেছে। নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) অনুযায়ী বছরে ১০ লাখ টন গম আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের গম বিক্রি হয়েছে ৬.৯৩ লাখ টন।
-
বাংলাদেশ: এ বছর প্রায় কোনো মার্কিন গম আমদানি না করলেও জুলাইয়ে বছরে ৭ লাখ টন মার্কিন গম কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। জুলাই পর্যন্ত ২.২ লাখ টন আমদানির অনুমোদন দিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়।
-
ভিয়েতনাম: দ্রুত বর্ধনশীল পশুখাদ্য বাজার। সম্প্রতি ২ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য কেনার সমঝোতা করেছে। এর মধ্যে আইওয়া থেকে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের ভুট্টা, গম ও সয়াবিন খাবার অন্তর্ভুক্ত।
-
থাইল্যান্ড ও ফিলিপাইন: মার্কিন ভুট্টার নতুন বড় ক্রেতা হতে পারে। থাইল্যান্ড কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের ফিড গমের বিকল্প হিসেবে ১০ লাখ টনের বেশি মার্কিন ফিড ভুট্টা আমদানি করতে পারে।
🌍 বিশ্লেষকেরা বলছেন, মার্কিন গম, ভুট্টা ও সয়ামিল তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যাচ্ছে, যা এশিয়ার বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলছে।
-
মার্কিন নরম সাদা গম: ২৮০ ডলার/টন, কৃষ্ণসাগর অঞ্চলের সমান দাম।
-
মার্কিন ভুট্টা: দক্ষিণ আমেরিকার তুলনায় ১০-১৫ ডলার সস্তা।
-
মার্কিন সয়ামিল: প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় ৫ ডলার ছাড়ে পাওয়া যাচ্ছে।
🔎 প্রেক্ষাপট: গত দশকে কৃষ্ণসাগর ও দক্ষিণ আমেরিকার রপ্তানিকারকরা এশিয়ার বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছিল। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের সস্তা ও শুল্কসুবিধাপ্রাপ্ত শস্য তাদের জন্য কঠিন প্রতিযোগিতা তৈরি করছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, প্রতিদ্বন্দ্বীদের বাধ্য হয়ে মূল্য কমাতে হবে এবং নতুন বাজার খুঁজতে গিয়ে পরিবহন ব্যয় বাড়বে।