আন্তর্জাতিক ডেস্ক বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬
ফেব্রুয়ারির শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল বনাম ইরান যুদ্ধ বন্ধে এবার শর্তের লড়াই শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম চ্যানেল-১২ এবং মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই পক্ষই সংঘাত অবসানে একে অপরের কাছে কঠোর সব দাবি ও শর্তের তালিকা পাঠিয়েছে।
ইরানের ৫ দফা শর্ত
মিডল ইস্ট মনিটর-এর বরাতে জানা গেছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পরোক্ষ আলোচনার অংশ হিসেবে ইরান পাঁচটি প্রধান শর্ত দিয়েছে: ১. নিশ্চয়তা: ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল আর কখনো হামলা করবে না—এমন দৃঢ় ও আনুষ্ঠানিক নিশ্চয়তা। ২. হরমুজ প্রণালিতে নিয়ন্ত্রণ: এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের জন্য নতুন এক ব্যবস্থা, যা কার্যত ইরানের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ৩. মার্কিন ঘাঁটি বন্ধ: মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সকল সামরিক ঘাঁটি তুলে নেওয়া। ৪. ক্ষতিপূরণ: চলমান যুদ্ধে ইরানের যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান। ৫. স্থায়ী সমাধান: সংঘাত যেন পুনরায় শুরু না হয় তার জন্য আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামো তৈরি।
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফা পরিকল্পনা
অন্যদিকে, নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে ১৫ দফার একটি খসড়া প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল বিষয়গুলো হলো:
-
ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ বা বন্ধ করা।
-
সমুদ্রপথের নিরাপত্তা: হরমুজ প্রণালি দিয়ে পশ্চিমা জাহাজ চলাচল পুনরায় স্বাভাবিক ও নিরাপদ করা।
-
আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা: আমেরিকা ও তার মিত্রদের প্রতি তেহরানের সকল হুমকি বন্ধ করা।
ট্রাম্পের বক্তব্য ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
টেনেসিতে এক অনুষ্ঠানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান এখন আলোচনার বিষয়ে ‘সিরিয়াস’। তিনি বলেন:
“আমরা আশা করি একটি চুক্তি হবে। তবে যা-ই ঘটুক, আমরা নিশ্চিত করব যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে। আমেরিকা ও আমাদের মিত্রদের প্রতি হুমকি বন্ধ করার জন্য ইরানের সামনে এখন সুযোগ আছে।”
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, যুদ্ধের ফলে তেলের দাম বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক অস্থিরতা সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসন দ্রুত এই সংকট থেকে বের হতে চাইছে। তবে ইসরায়েল এই ১৫ দফা প্রস্তাবে কতটা একমত, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সংকটের মূল কেন্দ্র: হরমুজ প্রণালি
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান কার্যত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পশ্চিমা জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে যে মন্দার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, সেটিই এখন দুই পক্ষকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।