
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ০৬ মার্চ ২০২৬
গাজায় চলমান যুদ্ধে নিজেদের পক্ষে সাফাই গাইতে এবং বৈশ্বিক জনমতকে প্রভাবিত করতে যে বিশাল প্রচারণাযন্ত্র গড়ে তুলেছিল ইসরায়েল, তা এখন অভ্যন্তরীণ আইনি লড়াইয়ের মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রচারণায় কাজ করা একদল প্রভাবশালী সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার, যোগাযোগ পরামর্শক এবং মিডিয়া কোম্পানি ইসরায়েল সরকারের বিরুদ্ধে মিলিয়ন মিলিয়ন শেকেল বকেয়া আদায়ের মামলা করেছে।
ইসরায়েলি দৈনিক ‘ক্যালকালিস্ট’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
বকেয়া পারিশ্রমিক: যুদ্ধের শুরুতেই আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ইসরায়েলপন্থী ন্যারেটিভ (Boyan) ছড়িয়ে দিতে অনেককে জরুরিভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কাজ শেষে সরকার তাদের প্রতিশ্রুত অর্থ পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছে।
টেন্ডার জালিয়াতি: তদন্তে দেখা গেছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর আনুষ্ঠানিক টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই প্রচারকাজ চালিয়েছিল।
ভিকটিমদের তালিকায় পরিচিত নাম: ইসরায়েলি সরকারের সাবেক মুখপাত্র এইলন লেভিও এই বকেয়া পাওনাদারদের একজন। তার মাসিক পারিশ্রমিক ছিল ১৩ হাজার ডলারেরও বেশি, যা এখনো বকেয়া রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
১. সাক্ষাৎকার স্টুডিও: ‘স্পিডি কল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠান ইসরায়েলি সামরিক সদর দপ্তরের ভেতরে ২৪ ঘণ্টা চালু স্টুডিও স্থাপন করেছিল, যাদের প্রায় ২ লাখ ডলার বকেয়া রয়েছে। ২. এসথার প্রজেক্ট: মার্কিন নথি অনুযায়ী, ‘এসথার প্রজেক্ট’-এর আওতায় টিকটক ও ইনস্টাগ্রাম ইনফ্লুয়েন্সারদের প্রতি পোস্টের জন্য গড়ে ৭ হাজার ডলার পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে। ৩. ইমেজ মেরামত: আন্তর্জাতিক আদালতে (ICJ) গণহত্যার শুনানি চলাকালীন ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ মোকাবিলায় এবং ইসরায়েলের ইতিবাচক ইমেজ তৈরিতেও বিপুল অর্থ খরচ করা হয়।
প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, গাজায় ইসরায়েলি অবরোধের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষের খবরের পাল্টা বয়ান তৈরি করতে প্রভাবশালী ইনফ্লুয়েন্সারদের গাজার নির্দিষ্ট কিছু স্থানে সফরের আয়োজন করা হয়েছিল। এই প্রচারণার লক্ষ্য ছিল বিশ্বকে দেখানো যে গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে, যদিও জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ত্রাণ সরবরাহে বাধা দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই ডিজিটাল এবং প্রচারণামূলক লড়াইকে যুদ্ধের ‘অষ্টম ফ্রন্ট’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। যেখানে সরাসরি যুদ্ধের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া ও এআই (AI) নির্ভর প্রচারণার মাধ্যমে বিশ্ববাসীর চোখ ধাঁধানোর চেষ্টা করা হয়েছে।