
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সাপ্তাহিক ছুটির আমেজ কাটতে না কাটতেই দেশের তিন জেলায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দিবাগত রাত থেকে আজ রোববার সকালের মধ্যে কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কুমিল্লায়, যেখানে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন ১২ জন।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে ট্রেনের ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী ‘চট্টগ্রাম মেইল’ ট্রেনটি অতিক্রম করার সময় চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নোয়াখালীগামী ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি বাস রেললাইনে উঠে পড়লে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষের পর বাসটি ট্রেনের ইঞ্জিনের সঙ্গে আটকে প্রায় এক কিলোমিটার ছেঁচড়ে নিয়ে যায়। এতে বাসটি দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই বেশ কয়েকজন মারা যান। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার এসআই জনি বড়ুয়া জানান, দুর্ঘটনায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় আজ ভোর ৪টার দিকে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। মহিপাল হাইওয়ে থানা পুলিশ জানায়, সড়কের সংস্কারকাজের কারণে যান চলাচলের ধীরগতির মধ্যে পেছন থেকে আসা বেপরোয়া গতির একটি বাস জটলার মধ্যে ধাক্কা দিলে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে বাসের সুপারভাইজার ও দুই যাত্রী রয়েছেন। দুর্ঘটনায় আহত আরও ৫ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এদিকে আজ সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আসবাববোঝাই পিকআপ ভ্যান খাদে পড়ে নারীসহ ৪ জন নিহত হয়েছেন। মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের বিপরীত পাশের খাদে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করেছে।
দৃষ্টি আকর্ষণ: সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশ জনগণকে বেপরোয়া গতি পরিহার এবং রেলক্রসিং পারাপারে অধিকতর সতর্ক থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।