আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১১তম দিন, চলমান সংঘাত
আমেরিকা ও ইসরায়েলের সাথে চলমান যুদ্ধের ১১তম দিনে এসে নিজের রণকৌশলে এক ভয়াবহ পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, এখন থেকে তারা কেবল সেইসব মিসাইল নিক্ষেপ করবে যেগুলোর গোলাবারুদ বহন ক্ষমতা (Payload) অন্তত এক হাজার কেজি বা এক টন।
‘ট্যাকটিক্যাল শিফট’: সংখ্যা নয়, লক্ষ্য এখন বিধ্বংসী ক্ষমতা
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) অ্যারোস্পেস ফোর্সের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাজিদ মুসাভি গত রোববার এই নতুন কৌশলের কথা জানান। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি বড় ধরনের ‘ট্যাকটিক্যাল শিফট’। যুদ্ধের শুরুতে ইরান সস্তা ‘শাহেদ-১৩৬’ ড্রোন দিয়ে শত্রুর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যস্ত রাখার কৌশল নিলেও, এখন তারা সরাসরি ‘খোররামশাহর-৪’ বা ‘খাইবার’-এর মতো ভারী ব্যালেস্টিক মিসাইলের ওপর নির্ভর করছে।
কেন এই পরিবর্তন?
১. প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দেওয়া: এই ভারী মিসাইলগুলো ম্যাক-৮-এর বেশি গতিতে চলে এবং মাঝ আকাশে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে, যা ইসরায়েলের উন্নত ‘অ্যারো-৩’ ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিতে সক্ষম। ২. বিশাল ব্লাস্ট রেডিয়াস: ড্রোনের তুলনায় এক টনের একটি মিসাইল কয়েক গুণ বেশি ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারে। এটি একটি আস্ত বিমানঘাঁটি বা আন্ডারগ্রাউন্ড কমান্ড সেন্টারকে নিমিষেই ধূলিসাৎ করে দিতে সক্ষম। ৩. ইন্টারসেপ্ট ম্যাথ বদলে দেওয়া: প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক শানাকা আনসেলম পেরেরার মতে, একটি ড্রোন আটকাতে চার মিলিয়ন ডলারের মিসাইল খরচ করা ছিল অর্থনৈতিক যুদ্ধ। কিন্তু এক টনের মিসাইল আটকাতে ব্যর্থ হওয়ার অর্থ হলো অপূরণীয় সামরিক ক্ষতি।
ইরানের হাতে থাকা শক্তিশালী অস্ত্রশস্ত্র
বর্তমানে ইরানের হাতে এক হাজার কেজির বেশি বিস্ফোরক বহনে সক্ষম বেশ কিছু শক্তিশালী মিসাইল রয়েছে:
-
খোররামশাহ: ১,৮০০ কেজি বিস্ফোরক নিয়ে ২,০০০ কিমি দূরে আঘাত হানতে পারে।
-
সেজিল: সলিড ফুয়েলচালিত মাঝারি পাল্লার মিসাইল (২,০০০ কিমি পাল্লা)।
-
সুমার: ৩,০০০ কিমি পাল্লার ক্রুজ মিসাইল, যা পারমাণবিক অস্ত্র বহনেও সক্ষম বলে ধারণা করা হয়।
আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রভাব
লেবানিজ সংবাদমাধ্যম ‘আল মায়াদিন’-এর তথ্যমতে, দুবাই বিমানবন্দর এবং সৌদি আরবের ‘রাস তানুরাজ’ তৈল শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলো এখন ইরানের টার্গেটে রয়েছে। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমেরিকার ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র জবাবে মোজতবা খামেনির নেতৃত্বাধীন নতুন প্রশাসনের এই ‘হেভি পেলোড’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘস্থায়ী ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।