
এমদাদুর রহমান চৌধুরী জিয়া, সিলেট | ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, “বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর দাম স্থিতিশীল রাখা। বিশেষ করে রমজান মাসে এই দায়িত্বের গুরুত্ব আরও বেড়ে যায়। আমাদের হাতে যে পরিমাণ খাদ্য মজুত রয়েছে, তা বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।”
শুক্রবার সকালে তিন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবার নিজ নির্বাচনী এলাকা সিলেটে পৌঁছালে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, “আমরা যখন দায়িত্ব নিয়েছি, তখন রোজা খুব কাছে হওয়ায় বিশেষ কিছু করার সময় কম ছিল। তবে আশার কথা হলো, পর্যাপ্ত মজুত থাকায় রমজানে বাজার নিয়ে শঙ্কার কারণ নেই। আমরা বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
সিলেট নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “সিলেটের উন্নয়ন নিয়ে আমার নির্বাচনী ইশতেহারে বিস্তারিত উল্লেখ করেছি। বিশেষ করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আইটি খাতের প্রসারে আমি একটি এআই (Artifical Intelligence) সেন্টার প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেব।” তিনি আরও যোগ করেন, “বিশ্ব এখন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। প্রতিবেশী দেশগুলো বড় বড় ডিজিটাল স্কিম নিচ্ছে। আমরা পিছিয়ে থাকলে বিশ্ব আমাদের করুণার দৃষ্টিতে দেখবে। তাই আমাদের বৈশ্বিক সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।”
আইটি পার্কে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমাতে হবে। সিলেটে প্রবাসী ও দেশীয় বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ নীতি-সহায়তা প্রয়োজন। আমরা খুব শিগগিরই এসব উদ্যোগের বাস্তবায়ন দৃশ্যমান করব।”
এর আগে সকালে বিমানবন্দরে পৌঁছালে মন্ত্রীকে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও দলীয় নেতাকর্মীরা ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন:
জনপ্রতিনিধি: সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম এ মালিক।
প্রশাসন: সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মোঃ রেজা-উন-নবী, রেঞ্জ ডিআইজি মোঃ মুশফেকুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী এবং জেলা প্রশাসক মোঃ সারওয়ার আলম।
রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম, মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী এবং বিএনপি ও জোটের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আগামী পাঁচ বছর প্রতিটি দিনকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে বৈশ্বিক অবস্থানে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।