
রমজান শুধু পানাহার থেকে বিরত থাকার নাম নয়; এটি আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করার এবং আত্মিক নবায়নের এক অনন্য মাস। বছরের এই ৩০ দিন আমাদের রুটিন বদলে যায়, মন নরম হয় এবং আত্মা হয় পরিশুদ্ধ। যদি আপনি দীর্ঘস্থায়ী কোনো ভালো অভ্যাস গড়তে চান, তবে রমজানই হলো তার শ্রেষ্ঠ সময়। একে বলা যেতে পারে আত্মার জন্য একটি ‘ট্রেনিং ক্যাম্প’।
সম্মিলিত প্রচেষ্টা: সবাই একসঙ্গে রোজা রাখে বলে একাকিত্ববোধ হয় না এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখা সহজ হয়।
শৃঙ্খলিত জীবন: সেহরি ও ইফতারের কারণে আমাদের খাওয়া ও ঘুমের একটি নির্দিষ্ট রুটিন তৈরি হয়।
অধিক সওয়াব: প্রতিটি নেক আমলের সওয়াব এই মাসে বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
১. কুরআন তিলাওয়াত: রমজান হলো কুরআনের মাস। প্রতিদিন অন্তত এক পারা তিলাওয়াত করলে মাস শেষে পূর্ণ কুরআন খতম করা সম্ভব। ২. বেশি বেশি দোয়া: তাহাজ্জুদ, ইফতারের পূর্ব মুহূর্ত এবং শেষ ১০ রাতের সময়গুলো দোয়া কবুলের শ্রেষ্ঠ সুযোগ। ৩. দান-সদকা ও ফিতরানা: অভাবীদের মুখে হাসি ফোটাতে দান ও সদকা করুন। ঈদের নামাজের আগেই ফিতরানা আদায় করা জরুরি। ৪. রোজাদারকে ইফতার করানো: অন্যকে ইফতার করালে ওই রোজাদারের সমান সওয়াব পাওয়া যায়, যা আপনার আমলনামাকে সমৃদ্ধ করবে। ৫. অনর্থক কথা বর্জন: রোজা শুধু পেট খালি রাখা নয়, বরং মুখ ও কানকেও অশ্লীল ও অসার কথাবার্তা থেকে দূরে রাখা।
আপনার জীবনকে বদলে দিতে এই সাতটি অভ্যাস এই মাসেই ঝালিয়ে নিন:
কুরআনকে নিত্যসঙ্গী করা: শুধু তিলাওয়াত নয়, অর্থ বুঝে পড়ার চেষ্টা করুন। ধারাবাহিকতা রাখতে ‘কুরআন অ্যাপ’ বা ‘প্ল্যানার’ ব্যবহার করতে পারেন।
তাকওয়া বা সচেতনতা: কোনো কাজ করার আগে ভাবুন—‘আল্লাহ কি এতে খুশি হবেন?’ এই সচেতনতাই হলো প্রকৃত সফলতা।
উত্তম সঙ্গ নিশ্চিত করা: মসজিদে জামাতে নামাজ ও তারাবি আদায়ের মাধ্যমে নেককারদের সাহচর্যে থাকুন।
ডিজিটাল ডিটক্স: অনর্থক সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং ইবাদতে বিঘ্ন ঘটায়। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ব্যবহার কমিয়ে আত্মিক উন্নতিতে সময় দিন।
পরিমিত ও হালাল খাবার: ইফতারে অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার এড়িয়ে পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন। শরীর হালকা থাকলে ইবাদতে একাগ্রতা বাড়ে।
নতুন সূরা মুখস্থ করা: নতুন সূরা শিখলে নামাজে মনোযোগ বাড়ে। তারাবিতে ইমামের তিলাওয়াত শুনে অনুপ্রাণিত হওয়ার চেষ্টা করুন।
নির্জনে আল্লাহর সান্নিধ্য: কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে সকাল-সন্ধ্যার জিকির ও ইতিকাফের মাধ্যমে অন্তরের প্রশান্তি খুঁজুন।
রমজানের পরিবর্তন যেন শুধু ৩০ দিনের জন্য না হয়, বরং সারা জীবনের জন্য হয়। এর জন্য:
খুব ছোট ছোট আমল দিয়ে শুরু করুন যা আপনি সারা বছর চালিয়ে যেতে পারবেন।
আমলের পরিমাণের চেয়ে একাগ্রতা ও গুণগত মানের দিকে গুরুত্ব দিন।
অন্তত ৩টি প্রিয় অভ্যাস পরবর্তী বছরের জন্য স্থায়ী করার সংকল্প করুন।
নেক আমলের ওপর অটল থাকার জন্য (ইস্তিকামাহ) আল্লাহর কাছে সাহায্য চান।
উপসংহার: আল্লাহ আমাদের এই রমজানে বেশি বেশি নেক আমল করার তৌফিক দিন এবং রমজানের পবিত্র চেতনা সারা বছর ধরে রাখার শক্তি দান করুন। আমিন।
সূত্র: প্রোডাকটিভ মুসলিমস, গ্লোবাল রাহমাহ ফাউন্ডেশন