আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমে ১৫ শতাংশ
ঢাকা, বুধবার— পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে খেজুর আমদানিতে বড় ধরনের শুল্কছাড় দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোজার অন্যতম ইফতারসামগ্রী খেজুরের আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়ে ১৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
আজ বুধবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এনবিআর জানায়, রমজান মাসে খেজুরের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি পর্যায়ে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মঙ্গলবার একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই শুল্কছাড় আগামী বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
এনবিআর কর্মকর্তারা আশা করছেন, শুল্কছাড়ের ফলে খেজুরের আমদানি বাড়বে এবং বাজারে এর দাম কিছুটা কমবে।
এর আগে গত বছরও রোজার আগে নভেম্বর মাসে খেজুর আমদানিতে শুল্কছাড় দেওয়া হয়েছিল। সে সময় আমদানি শুল্ক ২৫ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ এবং অগ্রিম আয়কর ১০ থেকে কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়।
চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের শুরু থেকে সব ধরনের খেজুর আমদানিতে মোট শুল্ক-কর ছিল ৫৭ দশমিক ২০ শতাংশ। এর মধ্যে আমদানি শুল্ক (সিডি) ২৫ শতাংশ, ভ্যাট ১৫ শতাংশ, অগ্রিম কর ৫ শতাংশ এবং নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ ছিল। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমায় মোট শুল্ক-কর নেমে এসেছে ৪৭ দশমিক ২০ শতাংশে।
তবে আমদানিকারকেরা জানিয়েছেন, নতুন সার্কুলার এখনো এনবিআরের সার্ভারে যুক্ত হয়নি। তিন দিনের ছুটি থাকায় আগামী রোববার থেকে নতুন হারে পণ্য শুল্কায়ন শুরু হতে পারে।
শুল্কছাড়ের ফলে খেজুরের দাম কতটা কমবে—এ বিষয়ে এখনই সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলতে পারছেন না আমদানিকারকেরা। তাঁদের মতে, ১০ শতাংশ শুল্ক কমায় দাম কিছুটা কমতে পারে, তবে প্রকৃত প্রভাব বোঝা যাবে শুল্কায়ন শুরু হলে।
বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আমদানি শুল্ক কমানোর পাশাপাশি অগ্রিম কর ও রেগুলেটরি ডিউটি কমানোর দাবিও ছিল আমাদের। সরকার তা মানেনি। ফলে ১০ শতাংশ শুল্ক কমলেও বাজারে এর প্রভাব খুব বেশি পড়বে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘খেজুর আমদানিতে বড় সমস্যা হলো ট্যারিফ হার বা শুল্কায়ন মূল্য। আমরা যে দামে খেজুর আমদানি করি, শুল্ক ধরা হয় তার চেয়ে অনেক বেশি মূল্যের ওপর। এতে প্রকৃত করের বোঝা বেড়ে যায়।’