২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

রাজনীতির নামে ‘বুলিং ও মব কালচার’: সোশ্যাল মিডিয়ায় শামারুহ মির্জার ক্ষোভ

admin
প্রকাশিত ২২ মার্চ, রবিবার, ২০২৬ ১২:৫১:৩১
রাজনীতির নামে ‘বুলিং ও মব কালচার’: সোশ্যাল মিডিয়ায় শামারুহ মির্জার ক্ষোভ

Manual3 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বাংলাদেশে বর্তমান রাজনৈতিক আবহে এক ‘নব্য শ্রেণির’ উত্থান এবং তাদের আচরণ নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বড় মেয়ে ড. শামারুহ মির্জা। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, গত দেড় বছর ধরে রাজনীতির দোহাই দিয়ে একটি বিশেষ গোষ্ঠী সুপরিকল্পিতভাবে বুলিং, হ্যারাসমেন্ট এবং মানসিক অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে।

‘সুস্থ ধারার রাজনীতি নয়, এটি সুপরিকল্পিত আক্রমণ’

ড. শামারুহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন, গত ১৮ মাস ধরে একদল ‘নব্য রাজনীতিবিদ’ জঘন্য মিথ্যাচার, মব জাস্টিস এবং চরিত্রহননের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মানসিকভাবে ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করছে। তার মতে, এই গোষ্ঠীর কাছে সামাজিক সৌজন্য বা নূন্যতম শিষ্টাচারের কোনো স্থান নেই। তারা সব ধরণের ‘ম্যানার্স’ বা ভদ্রতাকে বিসর্জন দিয়েছে।

Manual3 Ad Code

বুদ্ধিজীবী ও ইনফ্লুয়েন্সারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

শামারুহ মির্জা শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদেরই দায়ী করেননি, বরং সমাজের একটি প্রভাবশালী অংশের দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি লেখেন:

Manual3 Ad Code

“কিছু উগ্র ডানপন্থি, বুদ্ধিজীবী, সেলিব্রিটি, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার এমনকি গায়ক, লেখক এবং তথাকথিত সাংবাদিকরাও এই অরাজকতায় ইন্ধন দিচ্ছেন। কোনো সভ্য দেশ হলে এই ধরনের আচরণকারীরা কোথায় থাকতেন?”

Manual8 Ad Code

ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উদ্বেগ

পোস্টের শেষ দিকে তিনি গভীর সামাজিক উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে চলমান এই কুরুচিপূর্ণ প্রচার এবং রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতার পরিবেশে বড় হতে থাকা পরবর্তী প্রজন্ম কী শিখছে, তা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, বড় হয়ে এই শিশুরা কেমন মানুষ হবে এবং তারা কী ধরণের সমাজ গঠন করবে।

Manual1 Ad Code

রাজনৈতিক মহলের প্রতিক্রিয়া

শামারুহ মির্জার এই সাহসী এবং স্পষ্টবাদী পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক আক্রমণ নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক ও অনলাইন সংস্কৃতিতে ছড়িয়ে পড়া ‘বিষাক্ত প্রবণতার’ বিরুদ্ধে এক জোরালো প্রতিবাদ। অনেকে মনে করছেন, শিক্ষিত ও সচেতন সমাজকে এই ‘মব কালচার’-এর বিরুদ্ধে এখনই সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন।