৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

রাজনীতির ফন্দি-ফিকির: রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বিএনপির নতুন চাল?

admin
প্রকাশিত ০২ মার্চ, সোমবার, ২০২৬ ২৩:০২:১৮
রাজনীতির ফন্দি-ফিকির: রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বিএনপির নতুন চাল?

Manual5 Ad Code

আহমেদ রিয়াজ | ০২ মার্চ, ২০২৬

Manual3 Ad Code

সিলেটসহ সারা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু—আগামী সংসদ অধিবেশন এবং মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণ। তবে এই সাধারণ সংসদীয় প্রক্রিয়াকে ঘিরে পর্দার আড়ালে চলছে গভীর রাজনৈতিক মেরুকরণ ও আইনি মারপ্যাঁচ।

জুলাই সনদ ও গণপরিষদ বিতর্ক

বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি দ্বিতীয়বার শপথ নিত, তবে ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী ১৮০ দিন পর সংসদ অধিবেশন বসার কথা ছিল। এর মধ্যবর্তী ছয় মাস সময় থাকার কথা ছিল ‘গণপরিষদ’ হিসেবে। কিন্তু রাজনৈতিক সমীকরণে বিএনপি সেখানে পরাজিত হওয়ায় এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ায়, তাদের কাছে এখন গণভোটের আর কোনো কার্যকারিতা নেই বললেই চলে।

এখন প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি কি তাদের সুবিধামতো সংবিধানের ব্যাখ্যা দিচ্ছে?

রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে আইনি জটিলতা

সম্প্রতি এক ব্যালিস্টারের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে—সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতিকে যেন ভাষণের সুযোগ না দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপকে অনেকেই বিএনপির একটি নতুন ‘ফন্দি-ফিকির’ হিসেবে দেখছেন।

Manual7 Ad Code

এর নেপথ্যে দুটি উদ্দেশ্য থাকতে পারে: ১. বর্তমান সরকারকে সংবিধান লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত করা। ২. বিগত ১৮ মাসের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড এবং তথাকথিত ‘অসাংবিধানিক’ পদক্ষেপগুলো আড়াল করা।

জনআকাঙ্ক্ষা ও সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা

সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ মনে করে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমেই বিগত ১৮ মাসের সকল ঘটনাবলি, মব সংস্কৃতির প্রভাব এবং বিতর্কিত গণভোটের আদ্যোপান্ত জাতির সামনে আসা উচিত। রাষ্ট্রপতির ভাষণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি জবাবদিহিতার একটি বড় মাধ্যম।

Manual5 Ad Code

আহমেদ রিয়াজের ভাষায়: “আমরা মহামান্য রাষ্ট্রপতির ভাষণের মধ্য দিয়ে বিগত দিনের সকল অপকর্ম আর অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডের কথা শুনতে চাই। ইনশাআল্লাহ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমেই আগামী সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হবে।”

Manual1 Ad Code

উপসংহার

সংবিধান রক্ষা বনাম রাজনৈতিক স্বার্থের এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় কার হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বন্ধ করার চেষ্টা যদি সফল হয়, তবে তা দেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ও বিতর্কিত অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।