নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে মেরুকরণের গুঞ্জন শুরু হয়েছে। আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামীর মধ্যকার সম্পর্ক ও কৌশল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চলছে নানা চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিশ্লেষকদের কেউ কেউ দাবি করছেন, জামায়াত মূলত বিএনপির কাঁধে বন্দুক রেখে নিজেদের রাজনৈতিক আখের গোছাতে ব্যস্ত।
বিদ্রোহী প্রার্থী ও জামায়াতের কৌশল
রাজনৈতিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, তিনশ আসনের মধ্যে প্রায় ৭৯টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থীদের সমর্থন দিয়ে বা তাদের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জামায়াত নির্বাচনে সুবিধাজনক অবস্থানে যেতে চায়। ৫ আগস্ট (লেখায় উল্লিখিত ৫ জুলাই মূলত ৫ আগস্ট হবে) পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জামায়াতের কৌশলগত অবস্থানে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এক সময় ভারতের কঠোর সমালোচনা করলেও, বর্তমানে তারা প্রতিবেশী দেশটির সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের বার্তা দিচ্ছে, যা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
তরুণ ভোটার ও বিদেশি প্রভাবের বিতর্ক
অভিযোগ উঠেছে, জামায়াত দেশের প্রায় ৪ কোটি তরুণ ভোটারকে টার্গেট করে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণা চালাচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকা বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় আগের চেয়ে পিছিয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এই রাজনৈতিক সমীকরণে বিদেশি শক্তির প্রভাব নিয়েও কথা উঠছে। নিবন্ধে দাবি করা হয়, জামায়াতের বর্তমান রাজনৈতিক তৎপরতার পেছনে পশ্চিমা শক্তি বা আমেরিকার প্রচ্ছন্ন সমর্থন রয়েছে। যদিও ঐতিহাসিকভাবে জামায়াতের আদর্শিক অবস্থানের সাথে পশ্চিমা দেশগুলোর সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল, তবুও বর্তমান প্রেক্ষাপটে সম্পর্কের নতুন ডাইমেনশন নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
বিএনপির অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ
জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে দল নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও মাঠ পর্যায়ে জামায়াতের সুসংগঠিত ক্যাডার ভিত্তিক রাজনীতির কাছে বিএনপি কিছুটা কোণঠাসা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নির্বাচনী প্রকৌশল বা ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ এর ক্ষেত্রে জামায়াতের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখছেন না বিশ্লেষকরা।
সাধারণ জনগণের উদ্বেগ
আওয়ামী লীগ বিহীন এই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যকার এই রহস্যময় সমঝোতা বা দ্বৈরথ দেশের সাধারণ জনগণের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ কি এই নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণে তার আদর্শিক ধারা বজায় রাখতে পারবে? নাকি দেশ আবার কোনো উগ্রবাদী বা বিদেশি আজ্ঞাবহ রাজনীতির কবলে পড়বে?
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপি যদি এখনই তাদের কৌশল পরিবর্তন না করে এবং জামায়াতের এই ‘মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধে’র ফাঁদে পা দেয়, তবে ভবিষ্যতে দলটির অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়তে পারে।
সতর্কীকরণ: এই প্রতিবেদনটি ব্যবহারকারীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি রাজনৈতিক বিশ্লেষণ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। সংবাদের বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।