
সুনির্মল সেন:
রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে পাওনা টাকা না দিয়ে ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি তুলে দিয়ে রিপন সাহা (২৫) নামের এক পেট্রোল পাম্প কর্মচারীকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই নেতার নাম আবুল হাসেম, যিনি রাজবাড়ী জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি।
সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে রাজবাড়ীর ‘করিম ফিলিং স্টেশনে’ একটি ল্যান্ড ক্রুজার গাড়ি নিয়ে ফুয়েল নিতে আসেন আবুল হাসেম। রিপন সাহা গাড়িতে ৫ হাজার টাকার তেল ভরে দিলেও কোনো টাকা না দিয়ে গাড়ি চালিয়ে চলে যেতে শুরু করেন হাসেম। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রিপন নিজের বেতন থেকে ওই টাকা কাটার ভয়ে গাড়ির পেছনে ছুটতে থাকেন। একপর্যায়ে মহাসড়কের ওপর রিপনের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন আবুল হাসেম। এতে মাথা থেঁতলে ঘটনাস্থলেই রিপনের মৃত্যু হয়।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, এটিই আবুল হাসেমের প্রথম অপরাধ নয়। ২০২৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি দৌলতদিয়া যৌনপল্লি থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটালেন। সাধারণ মানুষের মনে এখন বড় প্রশ্ন—কার খুঁটির জোরে এমন দুর্ধর্ষ অপরাধী বারবার জেল থেকে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছে?
রিপন সাহার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্তম্ভিত রাজবাড়ীবাসী। সুনির্মল সেনসহ বিভিন্ন সামাজিক বিশ্লেষক এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলছেন, ক্ষমতায় না থাকতেই যদি একজন নেতার আচরণ এমন নারকীয় হয়, তবে ভবিষ্যতে এরা সাধারণ মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে তা ভাবতেই গা শিউরে ওঠে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আবুল হাসেম ও তার ড্রাইভারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে রিপন সাহার বৃদ্ধ বাবা-মায়ের আহাজারি থামছে না। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি এখন ন্যায়বিচারের অপেক্ষায়।