
নিজস্ব প্রতিবেদক | রাজশাহী
রাজশাহীর শীর্ষ চাঁদাবাজ ও একাধিক মামলার আসামি চান সওদাগর (৪৫) এবং তাঁর দুই সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনী। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাতে নগরীর নতুন বিলশিমলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে বেশ কিছু দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
আটক অন্য দুজন হলেন—একই এলাকার মুরাদ আলী (২৮) ও মো. বিদ্যুৎ (৩৭)। পরে তাঁদের নগরীর রাজপাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, চান সওদাগর একজন পেশাদার অপরাধী। তাঁর বিরুদ্ধে মারামারি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সরকারি সম্পদ বিনষ্ট, মাদক, দস্যুতা, ডাকাতির প্রস্তুতি এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইনসহ অন্তত ১৮টি মামলা রয়েছে। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে তিনি এলাকায় ব্যাপক চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজিতে লিপ্ত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গ্রেপ্তার চান সওদাগর নিজেকে জামায়াতে ইসলামীর সহযোগী সংগঠন ‘বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন’-এর রাজশাহী মহানগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি দাবি করে আসছিলেন। তবে জামায়াতে ইসলামী ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের পক্ষ থেকে এই দাবি অস্বীকার করা হয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর বক্তব্য: দলের মহানগর সাংগঠনিক সেক্রেটারি জসিম উদ্দিন সরকার জানান, চান সওদাগর মিছিল-মিটিংয়ে আসলেও দলে তাঁর কোনো পদ-পদবি নেই।
শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের দাবি: সংগঠনের মহানগর সভাপতি অধ্যাপক আব্দুস সালাম জানান, চান সওদাগরের সঙ্গে তাঁর পরিচয় জেলে থাকা অবস্থায়, তবে সংগঠনের সঙ্গে তাঁর কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পৃক্ততা নেই।
রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মালেক জানান, সেনাবাহিনী তিনজনকে আটক করে থানায় সোপর্দ করেছে। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিষয়ে এবং তাঁদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের প্রেক্ষিতে নতুন মামলার প্রস্তুতি চলছে। আগামীকাল রোববার তাঁদের আদালতে পাঠানো হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর পুলিশের তৈরি ১২৩ জন চাঁদাবাজের তালিকায় চান সওদাগরের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যা নিয়ে তৎকালীন সময়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।