
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজশাহী নগরের উপশহর এলাকায় ব্যবসার কথা বলে বাড়ি ভাড়া নিয়ে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’ নামক একটি ভুঁইফোড় সংগঠনের কার্যালয় বানিয়ে বাড়ি দখলের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি জানতে পেরে আজ রোববার দুপুরে রাজশাহী-২ (সদর) আসনের বিএনপি প্রার্থী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু নিজেই উপস্থিত হয়ে ওই কার্যালয়টি উচ্ছেদ করেছেন।
বাড়ির মালিক আইনজীবী আকরামুল ইসলাম জানান, গত বছরের অক্টোবরে সরকার জিয়াউর রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর চারতলা ভবনের দোতলাটি ডেভেলপার ব্যবসার অফিস করার কথা বলে মাসিক ২৯ হাজার টাকায় ভাড়া নেন। কিন্তু কিছুদিন পরই সেখানে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি—বেগম খালেদা জিয়া পরিষদ’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি মাইক বাজিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচিও পালন করা শুরু হয়।
বাড়ির মালিকের অভিযোগ, ভাড়াটে সরকার জিয়াউর রহমান গত কয়েকমাস ধরে কোনো ভাড়া, বিদ্যুৎ বা গ্যাস বিল পরিশোধ করেননি। বাড়ি ছাড়ার জন্য গত ডিসেম্বরে লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হলেও তারা বাড়ি ছাড়েনি, উল্টো প্রাণনাশের হুমকি দেয়। বাড়ির মালিকের ছেলে সায়েমুল ইসলাম ফেসবুকে এ নিয়ে একটি পোস্ট দিলে বিষয়টি বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনুর নজরে আসে।
আজ রোববার দুপুর ২টায় মিজানুর রহমান মিনু দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে ওই বাড়িতে যান এবং নিজ হাতে বিতর্কিত সংগঠনের ব্যানার ও সাইনবোর্ড নামিয়ে ফেলেন। মিনুর উপস্থিতি টের পেয়ে অফিসের ভেতরে থাকা যুবকেরা পালিয়ে যায়। উচ্ছেদ শেষে মিনু ওই কার্যালয়ে তালা লাগিয়ে চাবি নিজের জিম্মায় নেন এবং বাড়িওয়ালাকে নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, "জাতীয় বা স্থানীয়ভাবে এই নামে বিএনপির কোনো স্বীকৃত সহযোগী সংগঠন নেই। এরা প্রতারক এবং দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করছে। বাড়িওয়ালা নিজেও বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত, তাকে সরল বিশ্বাসে ঠকানো হয়েছে। বিষয়টি আমি কেন্দ্রে জানাবো এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেব।"
কথিত এই সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি দাবিদার সরকার জিয়াউর রহমান জানান, তিনি ১৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। তার দাবি, সংগঠনটি ভুঁইফোড় নয় এবং তারা বাড়ি দখলের চেষ্টা করেননি, বরং নতুন অফিস খোঁজার জন্য সময় নিচ্ছিলেন।
বর্তমানে ওই এলাকায় পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং বাড়ির মালিকের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।