
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী | ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬
দীর্ঘ ২২ বছর পর রাজশাহীর মাটিতে পা রেখে নির্বাচনী জনসমুদ্রে ভাষণ দিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা ময়দানে আয়োজিত জনসভায় তিনি আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং ভোটারদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো কেন্দ্র পাহারা দেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, “বিগত ১৬ বছর আমরা গায়েবি ও ডামি নির্বাচন দেখেছি। মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এখন সেই স্বৈরাচার বিদায় নিলেও আরেকটি মহল ভেতরে-ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে কীভাবে এই নির্বাচনকে ক্ষতিগ্রস্ত করা যায়। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচন যেন কেউ বানচাল করতে না পারে, সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। জনগণ সতর্ক থাকলে ১৩ তারিখ থেকে শুরু হবে জনগণের জয়যাত্রা।”
সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে (শেরপুর, পটুয়াখালী ও রংপুর) নির্বাচনী সহিংসতার প্রেক্ষাপটে তারেক রহমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আমরা ঝগড়া-বিবাদে যেতে চাই না। কোথাও কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে সঠিক ও সুষ্ঠু তদন্ত করুন। তদন্তে যদি বিএনপির কারও ভূমিকা থাকে, আমরা সহায়তা করব। কিন্তু অপরাধীকে দেশের আইন অনুযায়ী বিচার হতে হবে।”
রাজশাহীর উন্নয়নে তারেক রহমান বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো ‘পদ্মা ব্যারাজ’ নির্মাণ। তিনি বলেন:
পদ্মা ব্যারাজ: ভারতের ফারাক্কার বিপরীতে পদ্মা ব্যারাজ নির্মাণ করে উত্তরাঞ্চলের পানির সমস্যা সমাধান করা হবে।
কৃষি ও বরেন্দ্র প্রকল্প: শহীদ জিয়ার শুরু করা বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।
বিশেষায়িত হাসপাতাল: রাজশাহীতে উন্নত মানের বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে যাতে চিকিৎসার জন্য মানুষকে দেশের বাইরে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ করতে না হয়।
কর্মসংস্থান ও আইটি পার্ক: অকেজো হয়ে পড়ে থাকা রাজশাহী আইটি পার্ক সচল করে শিক্ষিত যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতির ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, “আমরা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান বা মুসলমান দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই সে মানুষ এবং সে বাংলাদেশি। ৭১ ও ২৪-এর আন্দোলনে আমরা ধর্ম দেখিনি, দেশ গড়ার সময়েও আমরা বিভেদ চাই না।”
বক্তব্য শেষে তারেক রহমান রাজশাহী, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের ধানের শীষের ১৩ জন প্রার্থীকে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি রসিকতা করে বলেন, “আগামী ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা এদের দেখে রাখবেন, আর ১৩ তারিখ থেকে এরা আপনাদের দেখে রাখবে।”
মাদ্রাসা ময়দান ছাপিয়ে আশপাশের রাস্তাগুলোতেও তিল ধারণের জায়গা ছিল না। এই জনসভা শেষে তিনি নওগাঁ ও রাতে বগুড়ায় নিজ নির্বাচনী এলাকায় জনসভার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
বিশ্লেষণ: তারেক রহমানের এই বক্তব্যে দুটি দিক স্পষ্ট—একদিকে তিনি সহিংসতার দায় নিতে চান না (তদন্তের আহ্বান), অন্যদিকে পদ্মা ব্যারাজের মতো বড় প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভারত-বাংলাদেশ পানি রাজনীতির স্পর্শকাতর ইস্যুতে জনগণের সমর্থন আদায় করতে চাইছেন।