
সিলেট:
বিপিএলের শুরুটা হয়েছিল রানের ফুলঝুরি দিয়ে। সিলেট স্ট্রাইকার্সের করা ১৯১ রানের লক্ষ্য মাত্র দুই বল হাতে রেখে টপকে যায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। তবে টুর্নামেন্ট যত এগোচ্ছে, রান উৎসব ততই ফিকে হয়ে আসছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দল ঘোষণা হওয়ার কথা থাকায় ব্যাটারদের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এবারের বিপিএল অনুষ্ঠিত হচ্ছে মাত্র দুই ভেন্যুতে। এক ভেন্যুতে টানা ম্যাচ হওয়ায় উইকেটের ক্লান্তি বাড়ছে, পাশাপাশি আবহাওয়া ও কন্ডিশনও ব্যাটিংবান্ধব নয়। লো স্কোরিং ম্যাচ রোমাঞ্চকর হলেও বিশ্বকাপের আগে ব্যাটারদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
গতকাল পর্যন্ত বিপিএলে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১০টি ম্যাচ, যার সবকটিই হয়েছে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে। প্রথম ম্যাচ ছাড়া আর কোনো ম্যাচেই ১৭৫ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেনি দলগুলো। মাঝারি মানের পুঁজি নিয়েই ইনিংস শেষ হচ্ছে, আর লক্ষ্য তাড়াতেও দেখা যাচ্ছে না আক্রমণাত্মক ব্যাটিং।
তবে গতকালের প্রথম ম্যাচে ছিল ব্যতিক্রম। ঢাকা ক্যাপিটালসের দেওয়া ১২৩ রানের লক্ষ্য ১০ উইকেট ও ৪৪ বল হাতে রেখে সহজেই পেরিয়ে যায় চট্টগ্রাম রয়্যালস। ৩৬ বলে ৯ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রান করে ম্যাচসেরা হন ইংলিশ ক্রিকেটার অ্যাডাম রসিংটন। একই ম্যাচে টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সর্বোচ্চ চারটি স্টাম্পিং করে বিশ্ব রেকর্ডও ছুঁয়েছেন তিনি। ব্যাট হাতে ফিফটি ও কিপিংয়ে রেকর্ড—দুটি অর্জনেই গড়েছেন বিরল নজির।
রসিংটনের সঙ্গে দারুণ জুটি গড়েন নাঈম শেখ। কোটিপতি এই ব্যাটার ৪০ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৫৪ রান করেন।
তবে দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে আবারও রানখরার চিত্রই ফিরে আসে। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে সিলেট টাইটানস ৮ উইকেটে থামে ১৪৪ রানে। টি-টোয়েন্টিতে দর্শকেরা চার-ছক্কারের মার দেখতে চাইলেও সিলেটের উইকেটে তা মিলছে খুব কমই।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছর সিলেটে হওয়া ১২ ম্যাচে ওভারপ্রতি রান ছিল ৯.২৬। অথচ এবার একই ভেন্যুতে ওভারপ্রতি রান নেমে এসেছে ৭.৬০-এ।
প্রাথমিকভাবে তিন ভেন্যুতে বিপিএল আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর কারণে টুর্নামেন্ট দুদিন বন্ধ থাকায় লজিস্টিক জটিলতা তৈরি হয়। ফলে চট্টগ্রাম পর্ব বাতিল করে সিলেট ও ঢাকায় সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে টুর্নামেন্ট। সিলেট পর্ব বর্ধিত হয়ে চলবে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত, যেখানে আরও ১৪টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এই সময়ের মধ্যে ব্যাটাররা রানখরার চিত্র বদলাতে পারবেন কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।