
বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক, রাজশাহী | ০২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) গণভোটবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে বিরোধিতাকারী ১৬১ জন শিক্ষকের তালিকা প্রকাশ করেছেন রাকসুর সাবেক জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার। আজ সোমবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে আয়োজিত সভায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের উপস্থিতির প্রতিবাদে তিনি এই তালিকা প্রকাশ করেন।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ। অনুষ্ঠানে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়সহ ১৩টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় যখন বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক খাদেমুল ইসলাম মোল্ল্যা বক্তব্য দেন। এরপরই সালাহউদ্দিন আম্মার মঞ্চের সামনে এসে কথা বলার সুযোগ চান। সঞ্চালক বাধা দিলেও উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্ হাসান নকীবের সম্মতিতে তিনি বক্তব্য শুরু করেন।
বক্তব্য দেওয়ার সময় আম্মার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য তো তখনই নষ্ট হয়েছে, যখন ফ্যাসিস্টগুলোকে সামনে বসিয়ে গণভোটের আলোচনা করা হচ্ছে।” তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনে এই শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন এবং পুলিশের হামলায় মদদ দিয়েছিলেন।
সঞ্চালক তাকে থামানোর চেষ্টা করলে আম্মার পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তালিকায় ১৬১ জন শিক্ষকের নাম রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে না দিলে তিনি জুলাইয়ে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করবেন। পরে উপাচার্যের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আম্মার সভাশেষে সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা দেন।
সভা শেষে একই মঞ্চে সংবাদ সম্মেলন করেন সালাহউদ্দিন আম্মার। তিনি ১৬১ জন শিক্ষকের নাম সম্বলিত তালিকা প্রকাশ করেন। তার তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলো হলো:
সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার।
সাবেক দুই সহ-উপাচার্য অধ্যাপক সুলতান-উল ইসলাম ও অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর।
সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আসাবুল হক।
শিক্ষক সমিতির বর্তমান সভাপতি হাবিবুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক সরকার।
সংবাদ সম্মেলনে আম্মার অভিযোগ করেন, এই শিক্ষকরা আন্দোলনে অর্থায়ন করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছেন। তিনি ঘোষণা দেন, আগামী ৫ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সভায় যদি এই ১৬১ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত না আসে, তবে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে এবং তিনি নিজে সভার বাইরে অবস্থান ধর্মঘট করবেন।