বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক | রাজশাহী
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল এক ‘গণ-ইফতার’ কর্মসূচিতে চরম অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। আজ রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ মাঠ ও শহীদ মিনার চত্বরে প্রায় ১৫ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য এই আয়োজন করা হলেও শতাধিক শিক্ষার্থী টোকেন থাকা সত্ত্বেও খাবার না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে এই বিপুল খরচের অর্থের উৎস নিয়ে খোদ রাকসু নেতাদের মধ্যেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
অব্যস্থাপনায় শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মুসলিম শিক্ষার্থীদের জন্য গরুর মাংসের বিরিয়ানি এবং অন্য ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য মুরগির বিরিয়ানির ব্যবস্থা করা হয়। শিক্ষার্থীরা আগে থেকেই হল সংসদ থেকে টোকেন সংগ্রহ করেছিলেন। তবে ইফতারের আগমুহূর্তে খাবার শেষ হয়ে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে খালি হাতে ফিরে যেতে হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, “সারা দিন রোজা রেখে টোকেন নিয়ে আধা ঘণ্টা বসে থাকার পর জানানো হলো খাবার নেই। রাকসুর প্রতিনিধিদের বোঝা উচিত এটা ইফতার, ফুটেজ খাওয়ার জায়গা না।” অন্য এক শিক্ষার্থী সাকিব মল্লিক টোকেন থাকার পরেও খাবার না পাওয়াকে আয়োজকদের চরম ব্যর্থতা হিসেবে উল্লেখ করেন।
রাকসু নেতাদের বক্তব্যে গরমিল
বিশাল এই আয়োজনের ফাণ্ড বা খরচের উৎস সম্পর্কে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি রাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার ও সহকারী সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সালমান সাব্বির।
জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, “ফান্ড কোথা থেকে এসেছে তা ভিপি (মোস্তাকুর রহমান জাহিদ) ব্যবস্থা করেছেন। এটি রাকসুর নিজস্ব ফান্ড থেকে করা হচ্ছে না।” অন্যদিকে এজিএস সালমান সাব্বির অব্যবস্থাপনার কথা স্বীকার করে বলেন, “ম্যানেজমেন্টে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। অনেকে টোকেন ছাড়াই খাবার নিতে আসায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। তবে অর্থের উৎস সম্পর্কে আমরা নিশ্চিত নই।”
ভিপি’র নীরবতা
অর্থের উৎস এবং অব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে রাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) মোস্তাকুর রহমান জাহিদের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা
খাবার না পেয়ে অনেক শিক্ষার্থী ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’সহ বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে ক্ষোভ ঝাড়ছেন। বিশেষ করে টোকেন সিস্টেম থাকা সত্ত্বেও কেন খাবারের ঘাটতি হলো এবং এই আয়োজনের পেছনে কোন মাধ্যম অর্থায়ন করেছে—তা নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে।