নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
দেশের শাসনব্যবস্থাকে কার্যকর করতে রাষ্ট্র সংস্কারের চেয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব সংস্কার এখন বেশি জরুরি বলে মত দিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট নাগরিক ও বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা বলছেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা ছাড়া কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা টেকসই হতে পারে না। জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে রাজনৈতিক দলগুলোকেই সবার আগে জবাবদিহির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।
শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও শাসন প্রক্রিয়া’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা
অনুষ্ঠানের শুরুতে সিজিএসের সভাপতি জিল্লুর রহমান বলেন, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা কেবল প্রশাসনিক বিষয় নয়, বরং এগুলো সরাসরি রাজনৈতিক শক্তির ব্যবহার ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে যুক্ত। তিনি সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে প্রশাসনে পক্ষপাতিত্ব ও দলীয় প্রভাব বেড়ে গেলে গণতন্ত্র দুর্বল হয় এবং জনগণের আস্থা নষ্ট হয়।” শাসনব্যবস্থা কার জন্য এবং কোন কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে—রাজনৈতিক দলগুলোকেই এই প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর দিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
শাসনব্যবস্থার তিন স্তম্ভ
সংলাপে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সেলিম জাহান শাসনব্যবস্থার তিনটি প্রধান স্তম্ভের কথা উল্লেখ করেন: স্বচ্ছতা, দায়বদ্ধতা ও স্বাধীনতা। তিনি বলেন:
-
সরকারি তথ্য অতিরঞ্জিত করা মানেই জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা।
-
নির্বাচিত সরকারকে মনে রাখতে হবে তারা কোনো বিশেষ দলের নয়, পুরো দেশের।
-
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করা ছাড়া জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
সংলাপে অংশগ্রহণ
সংলাপে নীতিনির্ধারক, সাবেক সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা, গবেষক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা একমত হন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র চর্চা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার দীর্ঘস্থায়ী সুফল দেবে না।