ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিজস্ব কর্মকর্তাদের নিয়োগের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। বুধবার (১৯ নভেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে ইসির সঙ্গে সংলাপে এই দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। সংলাপে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনসহ অন্যান্য কমিশনার ও ইসির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বর্তমানে জাতীয় নির্বাচনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দ্বাদশ নির্বাচনেও এই ব্যবস্থা বজায় ছিল। এবার আনুষ্ঠানিক সংলাপের মাধ্যমে ইসির নিজস্ব জনবলকে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি পুনরায় তুলে ধরল বিএনপি।
‘ইসির নিজস্ব জনবল থেকেই দায়িত্ব দিন’ — মঈন খান
সংলাপে মঈন খান বলেন,
‘দেশ একটি ক্রান্তিকালে আছে। নির্বাচনের বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনায় ম্যানপাওয়ারের সর্বোচ্চ ব্যবহার জরুরি। রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা বাইরে থেকে ভাড়া করা হয়—এটা হওয়া উচিত নয়। আপনাদের নিজের যত লোকবল আছে, সেখান থেকেই দায়িত্ব দিন।’
তিনি আরও বলেন,
‘এই একটি সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আসবে। আপনাদের ১০ লাখ লোক দিতে হবে না; পাঁচ-ছয় শ জনবল দিতে পারবেন।’
‘সরকারের চারটি বাটনে নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয়’ — অভিযোগ বিএনপির
মঈন খান অভিযোগ করেন,
‘প্রধানমন্ত্রীর কম্পিউটারে চারটি বাটন—ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি। সেখান থেকে বাটন চাপা হয়, ৩০০ আসনের ফল বের হয়ে আসে। এই পদ্ধতি থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর করণীয় হলো নিয়মনীতি মেনে নির্বাচন করা। তবে নিয়ম যত জটিল হবে, লঙ্ঘনের প্রবণতাও বাড়বে—তাই নির্বাচন প্রক্রিয়া সহজ করার পরামর্শ দেন তিনি।
এআই অপব্যবহার ও গুজব ঠেকাতে আহ্বান
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মঈন খান বলেন,
‘স্বাধীনতা সীমাবদ্ধ—যা খুশি তাই করা যায় না। ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করা, লিঙ্গ-বর্ণ-ধর্মীয় আঘাত এড়ানো গুরুত্বপূর্ণ।’
তিনি আশা প্রকাশ করেন, কমিশন ও প্রার্থীরা দায়িত্বশীল আচরণ করবে।
ইসির চলমান সংলাপ
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গত বৃহস্পতিবার থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ করছে নির্বাচন কমিশন। ৪ দিনে ৪৭টি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে। আমন্ত্রণ পেয়েছিল ৪৯টি দল; তবে তৃণমূল বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) অংশ নেয়নি।
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ সাতটি দলকে এখনো সংলাপে ডাকা হয়নি। বাকি দলগুলোকে ডাকা হবে কিনা তা এখনো স্পষ্ট করেনি ইসি।