
ক্রীড়া প্রতিবেদক | ঢাকা বয়সটা কেবলই একটা সংখ্যা—আরও একবার প্রমাণ করলেন ম্যানুয়েল নয়্যার। সপ্তাহ দুয়েক আগেই চল্লিশে পা রাখা এই জার্মান কিংবদন্তি এখনো গোলপোস্টের নিচে বিশ্বের অন্যতম বিশ্বস্ত নাম। চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালের প্রথম লেগে রিয়াল মাদ্রিদের শক্তিশালী আক্রমণভাগকে একাই হতাশ করে বায়ার্ন মিউনিখকে পাইয়ে দিয়েছেন ২-১ গোলের মহাকাব্যিক জয়।
সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে বুধবার রাতে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডদের জন্য যমদূত হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন নয়্যার। ম্যাচের শুরু থেকেই কিলিয়ান এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রদের একের পর এক আক্রমণ চীনের প্রাচীর হয়ে রুখে দেন তিনি। পুরো ম্যাচে গুনে গুনে ৯টি দুর্দান্ত সেভ করেন নয়্যার। এমবাপ্পে স্বাগতিকদের হয়ে একমাত্র গোলটি করলেও, সেই শটেও বল ছুঁয়েছিলেন তিনি। এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচের ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (MVP) নির্বাচিত হন এই বায়ার্ন অধিনায়ক।
ম্যাচ শেষে নিজের এই চিরতরুণ পারফরম্যান্সের রহস্য ফাঁস করেছেন নয়্যার। তিনি বলেন:
‘আমি ফুটবলকে ভালোবাসি। অনুশীলন করতে এবং এই দলটার সঙ্গে খেলতে আমি ভীষণ উপভোগ করি। ফুটবলই আমার আবেগ। আর এই ভালোবাসা থেকেই আমি নিজের সেরাটা দিতে পারছি।’
নয়্যারের এমন পারফরম্যান্সে অবাক হননি বায়ার্ন কোচ ভিনসেন্ট কোম্পানি। তিনি প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন, ‘এটা শুধু অভিজ্ঞতা নয়, এটা খাঁটি মানের ব্যাপার। নয়্যার যে সেভগুলো করে, সেগুলো দেখতে খুব সহজ মনে হলেও আসলে গোলরক্ষকের জন্য অনেক কঠিন। সে সপ্তাহজুড়ে নিজের শরীরের ওপর অনেক কাজ করে বলেই আজ এতটা চটপটে।’
প্রথম লেগে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও পা মাটিতেই রাখছেন নয়্যার। আগামী ১৬ এপ্রিল আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ফিরতি লেগে রিয়ালকে আতিথেয়তা দেবে বায়ার্ন। ঘরের মাঠের সুবিধা কাজে লাগিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করাই এখন বায়ার্নের প্রধান লক্ষ্য।