নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬
বিশ্বজুড়ে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দামে নজিরবিহীন উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে থাকায় চলতি বছর প্রতি আউন্স সোনার দাম ৬ হাজার ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ডলার অতিক্রম
আজ সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ডলারের মনস্তাত্ত্বিক সীমা অতিক্রম করেছে। লেনদেনের একপর্যায়ে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ৯২ দশমিক ৭০ ডলারে পৌঁছায়। তথ্যমতে, ২০২৫ সালে সোনার দাম ৬৪ শতাংশ বাড়ার পর ২০২৬ সালের প্রথম মাসেই এটি ১৭ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের পূর্বাভাস: লক্ষ্যমাত্রা ৭ হাজার ডলার
লন্ডন বুলিয়ন মার্কেট অ্যাসোসিয়েশনের (LBMA) বার্ষিক জরিপে বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, ২০২৬ সালে সোনার গড় দাম হতে পারে ৪ হাজার ৭৪২ ডলার। তবে পরিস্থিতির অবনতি হলে এটি সর্বোচ্চ ৭ হাজার ১৫০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
এদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের আগের পূর্বাভাস সংশোধন করে ডিসেম্বর ২০২৬-এর লক্ষ্যমাত্রা ৫ হাজার ৪০০ ডলার নির্ধারণ করেছে। স্বাধীন বিশ্লেষক রস নরম্যান আরও এক ধাপ এগিয়ে পূর্বাভাস দিয়েছেন যে, এ বছর দাম ৬ হাজার ৪০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে।
কেন এই ঊর্ধ্বগতি?
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সোনার এই রেকর্ড দামের পেছনে তিনটি প্রধান কারণ কাজ করছে:
-
ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা: গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ন্যাটোর মধ্যকার টানাপোড়েন এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিনিয়োগকারীদের শঙ্কিত করে তুলেছে।
-
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা ক্রয়: ডলারের ওপর নির্ভরতা কমাতে পোল্যান্ড ও চীনের মতো উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলো প্রতি মাসে গড়ে ৬০ টন সোনা কিনছে। পোল্যান্ড তাদের মজুত ৫০০ টন থেকে ৭০০ টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা করেছে।
-
বিনিয়োগের নিরাপদ আশ্রয়: শেয়ারবাজার অতি মূল্যায়িত হওয়ার আশঙ্কায় সাধারণ বিনিয়োগকারীরা সোনা-সমর্থিত এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড (ETF)-এ রেকর্ড বিনিয়োগ করছেন। ২০২৫ সালে এই খাতে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৮৯ বিলিয়ন ডলার।
দরপতনের সম্ভাবনা কতটুকু?
মেটালস ফোকাসের পরিচালক ফিলিপ নিউম্যানের মতে, সোনার দামে বড় কোনো পতনের সম্ভাবনা আপাতত নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ যদি সুদের হার না কমায় কিংবা শেয়ারবাজারে বড় কোনো ধস নামে, তবে সাময়িকভাবে দামে সামান্য সংশোধন আসতে পারে। বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা না ফেরা পর্যন্ত সোনার এই দাপট অব্যাহত থাকবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।