
ফিচার ডেস্ক | ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
আজ ১৪ ফেব্রুয়ারি, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। বর্তমান বিশ্বে দিনটি লাল গোলাপ, চকলেট আর কার্ডের আদান-প্রদানে সীমাবদ্ধ মনে হলেও, এর শেকড় প্রোথিত আছে হাজার বছরের পুরনো ইতিহাস আর কিংবদন্তিতে। রোমানদের প্রাচীন উৎসব থেকে শুরু করে আধুনিক বাণিজ্যিক রূপ— ভালোবাসা দিবসের বিবর্তন যেন এক রোমাঞ্চকর পথচলা।
গবেষকদের মতে, ভালোবাসা দিবসের শুরুটা হয়েছিল প্রাচীন রোমে ১৩ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারিতে উদ্যাপিত ‘লুপারকালিয়া’ নামক এক উর্বরতা উৎসবের মাধ্যমে। তবে খ্রিষ্টীয় পঞ্চম শতকের দিকে পোপ প্রথম গেলাসিয়াস এই উৎসব নিষিদ্ধ করে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন।
কিন্তু কে ছিলেন এই সেন্ট ভ্যালেন্টাইন? কিংবদন্তি অনুযায়ী, সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াসের বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে প্রেমীদের বিয়ে দিতেন পুরোহিত ভ্যালেন্টাইন। অন্য এক গল্প বলে, কারারক্ষীর অন্ধ মেয়েকে সুস্থ করে তুলেছিলেন তিনি, এবং মৃত্যুর আগে চিঠিতে লিখেছিলেন— ‘তোমার ভ্যালেন্টাইন’।
মজার ব্যাপার হলো, সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর পর প্রায় এক হাজার বছর পর্যন্ত দিনটি প্রেমের সাথে যুক্ত ছিল না। ১৩৮২ সালে ইংরেজ কবি জেফ্রি চসার তাঁর ‘পার্লামেন্ট অব ফাউলস’ কবিতায় প্রথম এই দিনটিকে পাখির সঙ্গী নির্বাচনের মাধ্যমে রোমান্টিক ভালোবাসার সাথে তুলনা করেন। এরপর থেকেই মধ্যযুগে দিনটি প্রেমিক-প্রেমিকাদের দিন হিসেবে জনপ্রিয়তা পায়।
ভালোবাসা প্রকাশের ভাষা দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন। বিশ্বের কিছু দেশের অনন্য রীতিগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| দেশ | বিশেষ ঐতিহ্য ও রীতি |
| জাপান | মেয়েরা ছেলেদের চকলেট উপহার দেয়। ঠিক এক মাস পর ১৪ মার্চ 'হোয়াইট ডে'-তে ছেলেরা উপহার ফিরিয়ে দেয়। |
| ফিলিপাইন | সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কয়েক হাজার দম্পতির বিশাল যৌথ বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। |
| ডেনমার্ক | ছেলেরা প্রেরকের নাম গোপন রেখে 'গ্যাকেব্রেভ' নামক ছন্দময় ও রহস্যময় প্রেমপত্র পাঠায়। |
| ফিনল্যান্ড | এখানে দিনটি রোমান্টিক ভালোবাসার চেয়ে বন্ধুত্ব দিবস (ইস্তাভানপাইভ্যা) হিসেবে বেশি জনপ্রিয়। |
| তাইওয়ান | ১০৮টি গোলাপ উপহার দেওয়ার অর্থ হলো সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া। |
| জার্মানি | এখানে শূকর (Pig) ভালোবাসা ও কামনার প্রতীক, তাই উপহার হিসেবে এর প্রতিকৃতি বিনিময় হয়। |
| দক্ষিণ আফ্রিকা | মেয়েরা তাদের প্রেমিকের নাম কাগজে লিখে জামার হাতার সাথে পিন করে রাখে। |
উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে এস্থার হাওল্যান্ডের মাধ্যমে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে ভ্যালেন্টাইন কার্ডের প্রচলন শুরু হয়। বর্তমানে এটি বিশ্বব্যাপী কোটি কোটি ডলারের উপহার ও পর্যটন শিল্পে রূপ নিয়েছে। ইতালির ভেরোনা শহর থেকে শুরু করে ফিলিপাইনের রাজপথ— সবখানেই আজ ভালোবাসার জয়গান।
উৎসবে ভিন্নতা থাকলেও সবকিছুর মূলে রয়েছে প্রিয়জনের প্রতি শ্রদ্ধা আর সম্পর্কের গভীরতা উদ্যাপন।