১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
২রা মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
২৭শে রজব, ১৪৪৭ হিজরি

লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: সাবেক এসআই আবজালের জবানবন্দি

admin
প্রকাশিত ১৯ নভেম্বর, বুধবার, ২০২৫ ২১:৫৮:২৩
লাশ পোড়ানোর ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলা: সাবেক এসআই আবজালের জবানবন্দি

Manual2 Ad Code

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর লাশ পোড়ানোর অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন পুলিশের সাবেক উপপরিদর্শক (এসআই) শেখ আবজাল হোসেন। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ তাঁর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়।

Manual8 Ad Code

শুনানির সময় মামলায় গ্রেপ্তার সাত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাভার সার্কেলের সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শাহিদুল ইসলাম, ডিবি পরিদর্শক আরাফাত হোসেন, এসআই মালেক, এসআই আরাফাত উদ্দিন, এএসআই কামরুল হাসান এবং কনস্টেবল মুকুল। এ ছাড়া সাবেক এমপি সাইফুল ইসলামসহ আটজন পলাতক রয়েছেন।


জবানবন্দিতে ঘটনার বিবরণ

আবজাল হোসেন জানান, গত বছর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র–জনতার আন্দোলনের সময় আশুলিয়া থানার ওসি এ এফ এম সায়েদকে ফোনে আন্দোলন দমন ও বিরোধীদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত নির্দেশনা দিতেন এমপি সাইফুল ইসলাম। ওসি সায়েদ তা অধস্তনদের দিয়ে বাস্তবায়ন করতেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট সকালে ওসি সায়েদ থানার সকল কর্মকর্তা–কর্মচারীকে ডেকে আন্দোলন মোকাবিলায় কঠোর নির্দেশ দেন এবং পরে বেশির ভাগ ফোর্স নিয়ে বাইপাইল কেন্দ্রীয় মসজিদের দিকে যান। শেখ হাসিনা দেশত্যাগ করার খবর পাওয়ার পর তিনি আবার থানায় ফিরে ফোর্স মোতায়েন করেন।

Manual6 Ad Code

আবজাল বলেন, বিকেল ৪টার দিকে ছাত্র–জনতার বিজয় মিছিল থানার দিকে এলে ওসির নির্দেশে এএসআই বিশ্বজিৎসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মিছিলের দিকে গুলি ছোড়েন। এতে কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে পড়ে যান। ওসির নির্দেশে লাশগুলো ভ্যানে তুলে থানার পিকআপে নেওয়া হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, ওসি সায়েদকে এসআই মালেক ও এএসআই বিশ্বজিতের সঙ্গে পরামর্শ করতে দেখেন। আচরণ দেখে তিনি আতঙ্কিত হন এবং সিভিল পোশাকে পিস্তল নিয়ে থানার বাহিরে স্থায়ী হন। বিজ্ঞাপনে তিনি বলেন, “আমি নার্ভাস অনুভব করি… সিদ্ধান্ত নিই, এখানে থাকা ঠিক হবে না।”

Manual3 Ad Code


লাশ পোড়ানোর ঘটনা

আবজালের দাবি, ১৫ আগস্ট থানায় ফিরে জানতে পারেন, গুলিতে নিহত যাদের পিকআপে রাখা হয়েছিল, সেই লাশগুলোতে ওসি সায়েদ ও এএসআই বিশ্বজিৎ পেট্রল ঢেলে আগুন দেয়। এরপর তারা বিকেল সাড়ে ৫টায় থানা ছেড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ক্যান্টনমেন্টে চলে যায়।

তিনি এটাও বলেন, ঢাকা রেঞ্জের তৎকালীন ডিআইজি নুরুল ইসলাম, ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এ ঘটনায় কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখেননি।


রাজসাক্ষী হওয়ার কারণ

জবানবন্দিতে আবজাল জানান, তিনি বিবেকের তাড়নায় কোনো প্রলোভন ছাড়াই রাজসাক্ষী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তাদের জন্য কিছু করতে না পারায় পরিবার ও ট্রাইব্যুনালের কাছে ক্ষমা চাইছি।”


আংশিক জেরা

জবানবন্দি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান তাঁকে আংশিক জেরা করেন। ৫ আগস্টের ঘটনার পর থানায় যোগ না দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে আবজাল বলেন—সেসব ঘটনার ধাক্কায় তিনি মানসিকভাবে ট্রমায় ছিলেন।

Manual1 Ad Code