
আন্তর্জাতিক ডেস্ক বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬ দক্ষিণ লেবানন দখল ও সেখানে বড় ধরনের স্থল অভিযান পরিচালনার ইসরায়েলি পরিকল্পনার বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে কানাডা। অটোয়া স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা কোনোভাবেই লঙ্ঘন করা যাবে না। ইসরায়েলি বাহিনী যখন সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার ভেতর পর্যন্ত লিটানি নদী এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই এই আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হলো।
লেবাননের সরকার ও জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংঘাতের সকল পক্ষকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক আইন মেনে চলতে হবে। বিবৃতিতে অবকাঠামো, স্বাস্থ্যকর্মী ও শান্তিরক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
অন্যদিকে, ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যঁ-নোয়েল বারো ইসরায়েলকে এই পরিকল্পনা থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ধরনের অভিযান কেবল মানবিক বিপর্যয়ই ডেকে আনবে না, বরং অঞ্চলের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তুলবে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা করেছেন যে, সামরিক বাহিনী লিটানি নদী পর্যন্ত একটি 'নিরাপত্তা অঞ্চল' নিয়ন্ত্রণ করবে। তিনি হুঙ্কার দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত লেবাননের বাস্তুচ্যুতদের ঘরে ফিরতে দেওয়া হবে না।
উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাৎজ এই অভিযানে গাজার 'রাফাহ ও বেইত হানুন মডেল' অনুসরণের কথা উল্লেখ করেছেন—যে শহর দুটি ইসরায়েলি হামলায় কার্যত মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মটরিচ দক্ষিণ লেবাননকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার এবং দেশের সীমানা পরিবর্তনের দাবি তুলেছেন।
স্থল অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ইসরায়েল ইতিমধ্যে লিটানি নদীর ওপরের গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং সীমান্তবর্তী ঘরবাড়িতে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করেছে। লেবাননের সেনাপ্রধান জোসেফাউন কাসমিয়েহ সেতুর ওপর হামলাকে 'স্থল অভিযানের পূর্বাভাস' হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এক নজরে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র:
নিহত: চলতি মাসের হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১,০৭২ জন প্রাণ হারিয়েছেন।
আহত: আহতের সংখ্যা প্রায় ৩,০০০ ছাড়িয়েছে।
বাস্তুচ্যুত: দক্ষিণ ও পূর্ব লেবানন এবং বৈরুত থেকে ১০ লাখেরও বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়েছেন।
সাম্প্রতিক হামলা: বুধবার ভোরেও আদলুন শহর এবং মিয়েহ মিয়েহ শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, লেবানন থেকে ছোড়া রকেট হামলায় উত্তর ইসরায়েলে মঙ্গলবার এক নারী নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে দক্ষিণ লেবানন সীমান্ত এখন এক ভয়াবহ যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে, যা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলেছে।