৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধা: সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে আবারও রোগীর মৃত্যু

admin
প্রকাশিত ১৪ জানুয়ারি, বুধবার, ২০২৬ ২১:৪৮:০৬
শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের বাধা: সঠিক সময়ে চিকিৎসা না পেয়ে আবারও রোগীর মৃত্যু

Manual6 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | শরীয়তপুর

Manual7 Ad Code

শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেটের দুই দফা বাধা ও চালককে মারধরের কারণে সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছাতে না পেরে জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকা নেওয়ার পথে অ্যাম্বুলেন্সেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত জমশেদ আলী শরীয়তপুর সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।

ঘটনার বিবরণ

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে জমশেদ আলী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে স্ট্রোকের রোগী হিসেবে শনাক্ত করে দ্রুত ঢাকার জাতীয় নিউরোসায়েন্সেস ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেন।

সিন্ডিকেটের হয়রানি এড়াতে স্বজনরা হাসপাতাল চত্বর থেকে অটোরিকশায় করে রোগীকে চৌরঙ্গী মোড় এলাকায় নিয়ে একটি ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্সে তোলেন। তবে সিন্ডিকেট সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে যায়।

Manual7 Ad Code

দুই দফায় বাধা ও হামলা

ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, অ্যাম্বুলেন্সটি যাত্রা শুরু করলে জেলা সদরের প্রেমতলা এলাকায় ১০-১২ জন সিন্ডিকেট সদস্য প্রথম দফায় গাড়িটি আটকে দেয়। সেখানে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে ৪০ মিনিট পর ছাড়া পেলেও জাজিরা উপজেলার জামতলা এলাকায় আবারও দুটি অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়।

Manual4 Ad Code

অভিযোগ উঠেছে, হান্নান, সুমন, সজীব ও সুজনসহ সিন্ডিকেট সদস্যরা এসময় অ্যাম্বুলেন্সের চালককে মারধর করেন এবং দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখেন। দুই দফায় প্রায় দুই ঘণ্টা সময় নষ্ট হওয়ার পর গাড়িটি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কিন্তু বিকেল ৪টার দিকে রাজধানীর বাংলামোটর এলাকায় পৌঁছালে অ্যাম্বুলেন্সেই রোগীর মৃত্যু হয়।

চালক ও স্বজনদের ক্ষোভ

অ্যাম্বুলেন্স চালক মো. সালমান বলেন, “ঢাকা থেকে রোগী আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয় সিন্ডিকেটকে ২ থেকে ৪ হাজার টাকা কমিশন দিতে হয়। অনুমতি ছাড়া রোগী নেওয়ায় তারা আমাকে মারধর করেছে এবং দীর্ঘ সময় আটকে রেখেছে।”

Manual7 Ad Code

মৃতের নাতি জোবায়ের হোসেন রোমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সিন্ডিকেটের বাধা ও হামলার কারণেই আমার নানা বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন। আমরা এই খুনি সিন্ডিকেটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল হাই মোল্লা এই ঘটনাকে ‘ঘৃণিত কাজ’ আখ্যা দিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, ভুক্তভোগী পরিবার মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৪ আগস্ট একই ধরণের সিন্ডিকেটের বাধার মুখে এক নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল, যা নিয়ে সারাদেশে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়। সেই ঘটনায় মূলহোতা সবুজ দেওয়ান গ্রেপ্তার হলেও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থামেনি।