কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :: ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর শাপলা চত্বরে সংঘটিত কথিত গণহত্যার ঘটনার বিচার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে প্রকাশের দাবিতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বাদ মাগরিব বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (বিকেএম) বৌলাই ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে বৌলাই ভবের বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে শাপলা চত্বরের ঘটনার বিভিন্ন তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয় এবং নিহতদের স্মরণে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বৌলাই ইউনিয়ন শাখার সভাপতি মাওলানা মুজিবুর রহমান রাঘুবীর সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নূরে আলমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল মুমিন শের জাহান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদির হাশেমী, শ্রমিক মজলিস সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক মাওলানা আশরাফ উদ্দিন, সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ শামসুল আলম, সহ-সাধারণ সম্পাদক মাওলানা শরিফুল ইসলাম (যোবায়ের), যুব মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ হাবীবুর রহমান মামুন, বৌলাই ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আমিন শহিদুল ইসলাম, ছাত্র মজলিস কিশোরগঞ্জ জেলা উত্তর শাখার সভাপতি মুহাম্মাদ এমদাদুল হক, সদর উপজেলা শাখার বাইতুল মাল সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি, সমাজকল্যাণ সম্পাদক মো. সাব্বির আহমদ এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, “শাপলা চত্বরে সংঘটিত ঘটনার প্রকৃত চিত্র আজও জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উন্মোচিত হয়নি। ওই রাতের ঘটনার নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং নিহতদের সঠিক সংখ্যা ও পরিচয় প্রকাশ করতে হবে।”
তারা আরও বলেন, “যে কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের জীবন রক্ষার দায়িত্ব সরকারের। শাপলা চত্বরের ঘটনায় যেসব প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে, সেসব প্রশ্নের জবাব জাতি জানতে চায়। সত্য গোপন না করে একটি স্বচ্ছ তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে পুরো ঘটনার বাস্তব চিত্র প্রকাশ করা সময়ের দাবি।”
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে নিহতদের রূহের মাগফিরাত কামনা, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। এতে বিপুলসংখ্যক স্থানীয় মুসল্লি, রাজনৈতিক কর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।