আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ মার্চ, ২০২৬
ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে দেশটির বর্তমান শাসনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এক নতুন এবং আশঙ্কাজনক পূর্বাভাস দিয়েছেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা ও মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জোনাথন প্যানিকফ। তাঁর মতে, ইরানে বর্তমান ধর্মীয় শাসনের পতন ঘটলে সেখানে গণতন্ত্র আসার সম্ভাবনা ক্ষীণ; বরং দেশটির ক্ষমতা সরাসরি চলে যেতে পারে ‘ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী’ বা আইআরজিসি (IRGC)-র হাতে, যা জন্ম দেবে এক সামরিক শাসিত রাষ্ট্র— ‘আইআরজিস্তান’।
মার্কিন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স কাউন্সিলের সাবেক এই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইরানের সম্ভাব্য ভবিষ্যৎকে তিনটি মূল ধারায় বিভক্ত করেছেন:
১. ‘আইআরজিস্তান’: আইআরজিসি-র সামরিক শাসন
প্যানিকফের মতে, যদি বর্তমান ধর্মীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তন ঘটে, তবে আইআরজিসি ক্ষমতার শূন্যস্থান পূরণ করবে। এক্ষেত্রে নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি কেবল একজন ‘সহযোগী’ হিসেবে থাকবেন, কিন্তু তাঁর পিতার মতো নিরঙ্কুশ ক্ষমতার অধিকারী হবেন না। এই সামরিক নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রব্যবস্থা বা ‘আইআরজিস্তান’ ক্ষমতা কুক্ষিগত করতে শুরুতে অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিকভাবে আরও বেশি কট্টর ও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
২. মার্কিন নিষেধাজ্ঞার হাত থেকে বাঁচতে ‘নমনীয় কৌশল’
দ্বিতীয় সম্ভাবনাটি হলো, সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের ক্ষমতাকে বৈধতা দিতে এবং জনগণের সমর্থন পেতে দ্রুত অর্থনৈতিক সংস্কারের পথে হাঁটতে পারে। সেক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি পেতে তারা ওয়াশিংটনের সঙ্গে বড় ধরনের কোনো চুক্তিতে যাওয়ার ক্ষেত্রে অভাবনীয় নমনীয়তা দেখাতে পারে। এই কৌশলের মাধ্যমে তারা ভঙ্গুর অর্থনীতিতে গতি এনে জনবিক্ষোভ প্রশমিত করার চেষ্টা করবে।
৩. দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও ক্ষমতার লড়াই
তৃতীয় পথটি সবচেয়ে সংকটাপন্ন। যদি শাসনের কেন্দ্র ভেঙে পড়ে এবং কোনো একক পক্ষ নিয়ন্ত্রণ নিতে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান এক দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও গৃহযুদ্ধের মুখে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে পশ্চিমা দেশগুলোকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে—তারা কি সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে, নাকি দূর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে।
বিশ্লেষক পরিচিতি: জোনাথন প্যানিকফ বর্তমানে আটলান্টিক কাউন্সিলের ‘স্কোক্রফট মিডল ইস্ট সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ’-এর পরিচালক এবং মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় নিকট প্রাচ্য বিষয়ক বিশেষজ্ঞ হিসেবে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
প্যানিকফের এই বিশ্লেষণ ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরানের ভবিষ্যৎ কেবল শাসনের পরিবর্তন নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক মানচিত্র ও নিরাপত্তার জন্য একটি নতুন মোড় হতে পারে।