নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
রাজধানীর শাহবাগ ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেল (সাবেক শেরাটন) মোড় এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীদের সাথে পুলিশের ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান, টিয়ারগ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। বর্তমানে পুরো যমুনা ও মিন্টু রোড এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বিকেলে ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থেকে মিছিল নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনের মোড়ে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যেতে চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান থেকে পানি নিক্ষেপ করে।
হতাহত ও ক্ষয়ক্ষতি সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব জাবেরসহ সংগঠনটির বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী এবং পুলিশ সদস্যও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের রাস্তা জলকামানের পানিতে সিক্ত। সেখানে বিক্ষোভকারীদের ফেলে যাওয়া জুতা, কম্বল ও কার্পেট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে।
নিরাপত্তা বেষ্টনী ও বর্তমান পরিস্থিতি সংঘর্ষের পর পুলিশ শেরাটন মোড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বর্তমানে ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় থেকে যমুনা অভিমুখী সড়কটি ব্যারিকেড দিয়ে পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার পাশাপাশি পথচারীদেরও তল্লাশি করা হচ্ছে। এদিকে, ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে এখনো বিক্ষোভ প্রদর্শন করছেন।
পুলিশ প্রশাসনের বক্তব্য ঘটনা সম্পর্কে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (লজিস্টিকস) হাসান মো. শওকত আলী বলেন,
“কোনো রকম উসকানি ছাড়াই পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এরপর পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে বাধ্য হয়। এখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি; কেবল সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও রাবার বুলেট ব্যবহার করা হয়েছে।”
ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, যমুনা বা কারওয়ান বাজার এলাকায় কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এই এলাকায় আর কোনো সভা-সমাবেশ করতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।