
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যাকে নিয়ে আপত্তিকর ছবি ছড়ানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর শাহবাগ থানা এলাকা। আজ বৃহস্পতিবার রাতে থানা চত্বরেই হামলার শিকার হয়েছেন ডাকসুর দুই সাবেক নেতা। ছাত্রশিবিরের অভিযোগ, ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। এ সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে কয়েকজন সাংবাদিকও লাঞ্ছিত হন।
জানা যায়, ‘ঈশান চৌধুরী’ নামের একটি আইডি থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর কন্যাকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ পোস্ট দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ‘অরণ্য আবির’ নামের একটি আইডি থেকে শিবিরের সাবেক ডাকসু প্রার্থী আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সেই পোস্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনায় নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে ও সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে আজ সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় যান আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ।
খবর পেয়ে ছাত্রদলের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী শাহবাগ থানায় জড়ো হন। তারা আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়ার দাবি জানান। এ সময় ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক জুবায়েন বিন নেছারী (এ বি জুবায়ের) এবং সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ সেখানে উপস্থিত হলে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। অভিযোগ ওঠে, ডাকসু নেতাদের উসকানিমূলক মন্তব্যের জেরে বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়।
পুলিশ দ্রুত জুবায়ের ও মুসাদ্দিককে উদ্ধার করে ওসির কক্ষে নিয়ে যায়। এর পরপরই ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা থানার সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এক পর্যায়ে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম সেখানে পৌঁছালে তাকে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়ে ঘিরে ধরা হয়।
ছাত্রশিবির: শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এস এম ফরহাদ দাবি করেন, ছাত্রদল বহিরাগতদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলা চালিয়েছে।
ছাত্রদল: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আন্তর্জাতিক সম্পাদক মেহেদী হাসান হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা তাদের মারধর করতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ নেতা-কর্মীরা উল্টো তাদের রক্ষা করেছেন।"
ডাকসু ভিপি: সাদিক কায়েম সাংবাদিকদের বলেন, "থানায় মব তৈরি করে ছাত্রদল এই হামলা চালিয়েছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার বিচার চাই।"
রাত পৌনে ৯টার দিকে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম এবং পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। বর্তমানে শাহবাগ থানা ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ক্যাম্পাস জুড়ে দুই সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।