৩রা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
১৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
১৪ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান রাবি রাকসু জিএসের, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা

admin
প্রকাশিত ২৯ ডিসেম্বর, সোমবার, ২০২৫ ২২:৫৩:২৩
শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান রাবি রাকসু জিএসের, পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তেজনা

Manual1 Ad Code

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মার। শিক্ষক নেটওয়ার্কের দেওয়া এক বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় তিনি এই আহ্বান জানান।

গতকাল রোববার (২৮ ডিসেম্বর) শিক্ষক নেটওয়ার্ক তাদের ফেসবুক পেজে ‘ক্যাম্পাসে ছাত্র প্রতিনিধিদের এখতিয়ারবহির্ভূত তৎপরতা বন্ধ হোক’ শিরোনামে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে। ওই বিবৃতির মন্তব্য ঘরে সালাহউদ্দিন আম্মার লেখেন, ‘শিক্ষক নেটওয়ার্ক বন্ধের আহ্বান জানাচ্ছি।’

Manual4 Ad Code

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, তিনি মন্তব্যটি মুছে দেননি। তাঁর ভাষায়, ‘তাঁরা যদি আমার কাজকে অপতৎপরতা হিসেবে দেখেন, তাহলে আমিও তাঁদের বিবৃতিকে সন্দেহের চোখে দেখি। তাঁরা আমাকে একটি আহ্বান জানিয়েছেন, আমিও তাঁদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি। তাঁরা এটাকে স্বাধীনতা হিসেবে দেখলে, আমিও আমার স্বাধীনতা প্রকাশ করছি।’

শিক্ষক নেটওয়ার্কের বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে মবপ্রবণতা চলছে। ডিনদের পদত্যাগে বাধ্য করা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হয়রানি এবং এখতিয়ারবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তোলা হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, জিএস প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি না চেয়ে ছয়জন ডিনের পদত্যাগ দাবি করেছেন এবং নিজেকে প্রশাসনের ভূমিকায় উপস্থাপন করে হুমকিমূলক ভাষা ব্যবহার করেছেন।

Manual2 Ad Code

এতে আরও বলা হয়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত ১২ জন ডিনের মধ্যে ছয়জনকে লক্ষ্য করে পদত্যাগের দাবি জানানো হলেও বাকি ছয়জনকে রাজনৈতিক বিবেচনায় ছাড় দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের অসম্মানিত বোধ করে ছয়জন ডিন দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন বলে দাবি করা হয়।

বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ক্যাম্পাসে ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করতে রাকসুর জিএস প্রকাশ্যে লীগপন্থী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন। এসব কর্মকাণ্ডকে রাকসুর এখতিয়ারবহির্ভূত ও আগ্রাসী আখ্যা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জবাবদিহি দাবি করা হয়। শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবি, এসব ঘটনার প্রভাব দেশের অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পড়ছে এবং এটি সরাসরি বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতার ওপর হামলা।

Manual5 Ad Code

এ বিষয়ে শিক্ষক নেটওয়ার্কের সদস্য ও রাবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌভিক রেজা বলেন, শিক্ষক নেটওয়ার্ক ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করে। তাঁর ভাষায়, ‘ভিন্ন মতাদর্শের কারণে যদি চাকরি চলে যেত, তাহলে আওয়ামী আমলেই শিক্ষক নেটওয়ার্কের অনেকের চাকরি চলে যেত। ৭৩-এর অধ্যাদেশ আমাদের একটি রক্ষাকবচ দিয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষক বা কর্মকর্তা বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে কাউকে গাছে বেঁধে রাখা, জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো বা মব সৃষ্টি করা কোনো শিক্ষার্থীর এখতিয়ারের মধ্যে পড়ে না। ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যও এই ক্ষমতা রাখেন না। কেউ অপরাধ করলে মামলা হতে পারে, প্রশাসন ব্যবস্থা নিতে পারে—কিন্তু নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধি এভাবে কাউকে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারেন না,’ বলেন তিনি।

Manual6 Ad Code