সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে প্রায় দুই সপ্তাহের অচলাবস্থা কাটিয়ে আবারও শুরু হয়েছে ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বন্ধ থাকা প্রশাসনিক ভবনের তালাও খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেনের উপস্থিতিতে প্রশাসনিক ভবন খুলে দেওয়া হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা নাসিম হোসেন ও কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. শহীদ ইকবালকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাসে ফেরেন এবং কলেজের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। কলেজটিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং শিক্ষার্থীদের অন্যান্য দাবির বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
গত শুক্রবার (৯ অক্টোবর) শিক্ষার্থীদের দাবিদাওয়া নিয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনা এবং সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা আন্দোলন থেকে সরে এসে ক্লাসে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিবর্তে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ গ্রহণ।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে বর্তমানে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই), সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন।
দীর্ঘদিনের দাবিগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষার্থীদের। ক্লাস শুরু হওয়ায় কলেজে শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক হয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।