
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ফিলিস্তিনি–আমেরিকান সাংবাদিক ও আল-জাজিরার প্রতিনিধি শিরিন আবু আকলেহ হত্যাকাণ্ডে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক সেনা কর্মকর্তা। তিনি দাবি করেছেন, ইসরায়েলি সেনারা ইচ্ছাকৃতভাবেই এই সাংবাদিককে গুলি করে হত্যা করেছিল।
অবসরপ্রাপ্ত মার্কিন কর্নেল স্টিভ গ্যাভাবিক্স সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম জেটিও নিউজ-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, তাঁর নেতৃত্বে হওয়া তদন্তে স্পষ্টভাবে প্রমাণ মেলে যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
গ্যাভাবিক্স অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন প্রশাসন ইসরায়েলকে সন্তুষ্ট রাখতে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্বল করে দেয়। তাঁর মতে, রাজনৈতিক চাপে আসল সত্য গোপন করা হয়েছে।
২০২২ সালের মে মাসে পশ্চিম তীরের জেনিন শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন সাংবাদিক শিরিন আবু আকলেহ। তখন গ্যাভাবিক্স ছিলেন মার্কিন নিরাপত্তা সমন্বয়ক কার্যালয়ের (USSC) চিফ অব স্টাফ। এফবিআই তদন্তে অস্বীকৃতি জানালে, মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে তদন্তের দায়িত্ব তাঁর হাতে আসে।
গ্যাভাবিক্স বলেন, তাঁর অনুসন্ধানে দেখা যায়—
ঘটনাস্থলে উপস্থিত ইসরায়েলি সেনারা জানত, সেখানে সাংবাদিকেরা আছেন।
শিরিনের গায়ে ‘PRESS’ লেখা নীল ভেস্ট ছিল, যা সহজেই চোখে পড়ার মতো।
অত্যন্ত নিখুঁতভাবে তাঁর মাথায় লক্ষ্য করে গুলি করা হয়, যা কোনো ভুলবশত গুলি নয়।
তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমার তদন্ত যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে প্রমাণ করেছে যে, এটি ছিল ইচ্ছাকৃত হত্যাকাণ্ড।”
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী অবশ্য নিজেদের তদন্তে দাবি করেছিল, শিরিন আবু আকলেহ সম্ভবত তাদের গুলিতে নিহত হয়েছেন, তবে তিনি ‘ইচ্ছাকৃত লক্ষ্যবস্তু’ ছিলেন না।
তবে গ্যাভাবিক্সসহ একাধিক স্বাধীন তদন্তে বারবার উঠে আসে, সাংবাদিকদের উপস্থিতি জেনেও গুলি চালানো হয়েছিল।
গ্যাভাবিক্স জানান, তিনি হত্যার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর প্রতিবেদন ইউএসএসসি যোগাযোগ কার্যালয়ের প্রধান জেনারেল মাইকেল ফেঞ্জেল-এর কাছে জমা দেন। কিন্তু ফেঞ্জেল ইসরায়েলি কমান্ডার জেনারেল ইয়েহুদা ফক্সের সঙ্গে কথা বলে জানান, ঘটনাটি ছিল “দুঃখজনক ভুল”।
এই ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করে গ্যাভাবিক্স বলেন, “ইউএসএসসি-তে কাজ করার সময় দেখেছি—সব সুবিধাই সবসময় ইসরায়েলিদের পক্ষে যায়।”
তিনি আরও জানান, তিনি ও তাঁর সহকর্মীরা পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে আরও কঠোর ভাষা যুক্ত করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু ফেঞ্জেল তা প্রত্যাখ্যান করেন।
“আমরা সবাই হতবাক হয়েছিলাম,” বলেন গ্যাভাবিক্স। “এখনো বিষয়টি আমার বিবেককে নাড়া দেয়।”
এ বিষয়ে জেনারেল ফেঞ্জেল মার্কিন দৈনিক দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-কে দেওয়া এক বিবৃতিতে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন।
🔹 সারকথা:
এই অভিযোগ মার্কিন প্রশাসনের ভেতরেই ইসরায়েলপন্থী প্রভাব এবং সাংবাদিক হত্যায় বিচারহীনতার সংস্কৃতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।