
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সিইও সাফিকুর রহমানের বাসায় ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মী মোহনাকে অমানবিক নির্যাতনের মামলায় চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। আজ মঙ্গলবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানির সময় সাফিকুর রহমানের স্ত্রী বীথি নির্যাতনের কথা আংশিক স্বীকার করেছেন।
শুনানি শেষে আদালত সাফিকুর রহমানকে ৫ দিন, তাঁর স্ত্রী বীথিকে ৭ দিন, এবং বাসার অন্য দুই গৃহকর্মী সুফিয়া ও রূপালীকে যথাক্রমে ৬ ও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
শুনানি চলাকালীন বিচারক মো. জাকির হোসাইন আসামিদের সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করেন। কেন শিশুটিকে নির্যাতন করা হতো—আদালতের এমন প্রশ্নের জবাবে সাফিকুরের স্ত্রী বীথি প্রথমে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। তিনি দাবি করেন, শিশুটির শরীরে আগের বাসার নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। তবে বিচারক যখন প্রশ্ন করেন, "তার সারা শরীরে কেন নির্যাতনের চিহ্ন?" তখন বীথি স্বীকার করেন, “আমি তাকে মাঝে মাঝে চড়-থাপ্পড় মেরেছি।”
বাথরুমে আটকে রাখা এবং সারা শরীরের জখম নিয়ে প্রশ্ন করা হলে বীথি আদালতে নিশ্চুপ থাকেন। অন্যদিকে, সাবেক এমডি সাফিকুর রহমানকে তাঁর দায়িত্বশীল পদের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আদালত প্রশ্ন করলে তিনিও নির্যাতনের বিষয়টি অস্বীকার করার চেষ্টা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই রুবেল মিয়া আদালতকে জানান, এটি একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও বর্বরোচিত ঘটনা। শিশুটিকে নিয়মিত গরম খুন্তি দিয়ে ছ্যাঁকা দেওয়া হতো। সেই আলামত উদ্ধার এবং কেন এতটুকু শিশুকে এমন অমানবিক নির্যাতন করা হতো, তা জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ একান্ত প্রয়োজন।
শুনানির সময় শতাধিক আইনজীবী আসামিদের রিমান্ডের পক্ষে সমর্থন জানান। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইনজীবী ফাহমিদা আক্তার রিংকিও রিমান্ডের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেন।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি এই নির্যাতনের ঘটনা সামনে আসার পর উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তার করে আজ কড়া নিরাপত্তায় (বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরিয়ে) আদালতে হাজির করে। আদালত নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শেষ করে আসামিদের পুনরায় আদালতে হাজির করতে হবে।