
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা তারিখ: ২১ এপ্রিল, ২০২৬
সারা দেশে আজ মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমান পরীক্ষা। সকাল ১০টায় ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডসহ কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে একযোগে এ পরীক্ষা শুরু হয়। বাংলা প্রথম পত্রের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা চলবে দুপুর ১টা পর্যন্ত।
এবারের পরীক্ষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রথমবারের মতো প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে কেন্দ্র সচিবদের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন কোনো ক্যামেরা অচল না থাকে এবং ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়।
এসএসসি (সাধারণ): ২০ মে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে। ব্যবহারিক পরীক্ষা চলবে ৭ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত।
দাখিল: কুরআন মাজিদ ও তাজভিদ দিয়ে শুরু হওয়া এই পরীক্ষা শেষ হবে ২৪ মে।
ভোকেশনাল: আজ বাংলা-২ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৪ মে তত্ত্বীয় শেষ হওয়ার পর ১৭-২১ মে ব্যবহারিক এবং ১-১৮ জুন পর্যন্ত বাস্তব প্রশিক্ষণ চলবে।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ১১ দফার একটি কঠোর নির্দেশিকা জারি করেছে। নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো হলো:
তল্লাশি: কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পরীক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি বাধ্যতামূলক। নারী পরীক্ষার্থীদের তল্লাশিতে নারী শিক্ষক নিয়োজিত থাকবেন।
টয়লেট তল্লাশি: পরীক্ষা শুরুর পরপরই কেন্দ্রের টয়লেটগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো প্রকার অবৈধ সামগ্রী বা নকল থাকলে তা অপসারণ করতে হবে।
ইলেকট্রনিক ডিভাইস: কেন্দ্রসচিব ব্যতীত অন্য কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না।
আসন বিন্যাস: ৫-৬ ফুট লম্বা বেঞ্চে ২ জন এবং ৪ ফুট লম্বা বেঞ্চে ১ জন করে শিক্ষার্থীর বসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতি ২০ জন পরীক্ষার্থীর জন্য একজন এবং প্রতিটি কক্ষে অন্তত দুইজন পরিদর্শক দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) রাজধানীর প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের ২০০ গজের মধ্যে সাধারণ জনগণের প্রবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তায় স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
মাউশি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, পরীক্ষা পরিচালনায় কোনো প্রকার অবহেলা বা গাফিলতি ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রসচিব ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রতিটি কক্ষে একটি করে এনালগ (কাঁটাওয়ালা) ঘড়ি টাঙানোর নির্দেশনাও কার্যকর করা হয়েছে।