
বিশেষ বিশ্লেষণ
২০১৮ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যখন আমরা বাংলাদেশের দিকে তাকাই, তখন এক বিস্ময়কর অগ্রযাত্রা চোখে পড়ে। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। দুর্নীতি, বৈষম্য বা সুশাসনের অভাবের মতো শত চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও এই পরিবর্তন আজ দৃশ্যমান এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। কিন্তু এই সাফল্যের সমান্তরালে একটি অদ্ভুত চিত্র পরিলক্ষিত হয়—দেশের এক শ্রেণির 'সুশীল সমাজ' এই উন্নয়নে আনন্দিত হওয়ার বদলে যেন কিছুটা উদ্বিগ্ন।
১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের সুশীল সমাজের একটি বড় অংশ আওয়ামী লীগ বিরোধী অবস্থানে চলে যায়। বর্তমান সময়ে তারা সরাসরি শেখ হাসিনার বিরোধী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। প্রশ্ন জাগে, কেন এই বুদ্ধিজীবী শ্রেণি শেখ হাসিনাকে তাঁদের পথের কাঁটা মনে করেন?
নিবন্ধে উঠে এসেছে বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তির নাম ও তাদের অতীত সংশ্লিষ্টতা:
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য: যাঁর পরিবার আওয়ামী লীগের সাথে ঘনিষ্ঠ ছিল এবং যিনি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েই জেনেভায় বিশেষ দায়িত্ব পালন করেছিলেন। অথচ পরবর্তীতে তিনি সরকারের কঠোর সমালোচকে পরিণত হন।
মতিউর রহমান ও মাহফুজ আনাম: দেশের প্রভাবশালী দুই সংবাদপত্রের সম্পাদক, যাঁদের আওয়ামী লীগ বিরোধী প্রচারণা দীর্ঘদিনের পরিকল্পিত কৌশল হিসেবে আলোচিত।
ড. বদিউল আলম মজুমদার ও ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন: যারা বিভিন্ন সময় সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপে নেতিবাচকতা খুঁজে পেয়েছেন।
গবেষণায় দেখা যায়, এই সুশীলদের অনেকেই এক সময় আওয়ামী লীগের কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন কিন্তু পরবর্তীতে রাজনৈতিক বিশ্বাস ভঙ্গ করেছেন। তবে শেখ হাসিনার সাথে তাদের বিরোধের সবচেয়ে বড় কারণটি হলো—রাজনীতির অগ্রাধিকার।
সুশীল সমাজ বা ‘বাবু সাহেব’রা সাধারণত ড্রয়িংরুম রাজনীতি এবং তাত্ত্বিক আলোচনায় অভ্যস্ত। অন্যদিকে শেখ হাসিনা তাঁর রাজনীতিতে স্যুট-টাই পরা অভিজাত শ্রেণির চেয়ে লুঙ্গি ও তেলচিটচিটে পাঞ্জাবি পরা প্রান্তিক মানুষকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি প্রান্তিক মানুষের দাবিকে যতটা গুরুত্ব দেন, সুশীলদের তথাকথিত 'মতলববাজি' পরামর্শকে ততটাই উপেক্ষা করেন।
শেখ হাসিনার রাজনীতির সবচেয়ে বড় শিক্ষক কোনো বিদেশি ডিগ্রিধারী সুশীল নন, বরং এদেশের সাধারণ মানুষ। সাধারণ মানুষের চিন্তার সাথে এই সুশীল সমাজের চিন্তার কোনো মিল নেই। সাধারণ মানুষ নিজের ক্ষুদ্র স্বার্থের চেয়ে দেশের বৃহত্তর কল্যাণ নিয়ে ভাবে, যা সুশীলদের ক্ষেত্রে অনেক সময় উল্টো দেখা যায়।
রাজনীতিতে শেখ হাসিনা যত বেশি পরিপক্ক হয়েছেন, তিনি তত বেশি সাধারণ মানুষকে আপন করে নিয়েছেন এবং সুশীলদের তাত্ত্বিক ফাঁদ বর্জন করেছেন। আর এই কারণেই তিনি জনগণের কাছে যতটা প্রিয়, সুশীল সমাজের একাংশের কাছে ঠিক ততটাই অপ্রিয়।