২২শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ
৮ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
৩রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত: ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ইসির

admin
প্রকাশিত ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, ২০২৬ ১৭:২০:০৮
শেরপুরে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত: ইউএনও ও ওসিকে প্রত্যাহারের নির্দেশ ইসির

Manual5 Ad Code

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

Manual2 Ad Code

শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে একই মঞ্চে প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে জামায়াত নেতা নিহত হওয়ার ঘটনায় কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রশাসনিক ব্যর্থতার দায়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) অবিলম্বে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Manual7 Ad Code

আজ বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ

ইসি সচিবের বক্তব্য

সংবাদ সম্মেলনে সচিব বলেন, “গতকাল বুধবার শেরপুরে একটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনী আচরণবিধি অনুযায়ী প্রার্থীদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইশতেহার পাঠ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু সেখানে সেই পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এর ধারাবাহিকতায় প্রাথমিক প্রশাসনিক ব্যবস্থা হিসেবে ওখানকার ইউএনও এবং ওসিকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

Manual3 Ad Code

তিনি আরও জানান, প্রার্থীদের দায়দায়িত্ব নিরূপণে বর্তমানে জুডিশিয়াল ইনকোয়ারি কমিটি কাজ করছে। কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর দোষী প্রার্থীদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কমিশন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকেলে ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামে প্রশাসন আয়োজিত ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে মঞ্চে বসা ও স্লোগান দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত নেতা-কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা রেজাউল করিম। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ১০টার দিকে তিনি মারা যান।

Manual6 Ad Code

থমথমে শেরপুর, নিরাপত্তা জোরদার

এ ঘটনার পর থেকে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) নির্বাচনী এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। আজ বিকেলে নিহত নেতার জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে।


বিশ্লেষণ: ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে সামনে রেখে এটিই প্রথম বড় কোনো সহিংসতা এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে ইসির প্রথম কঠোর ব্যবস্থা। নির্বাচনের মাত্র দুই সপ্তাহ আগে এই ধরনের ঘটনা রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকেরা।