
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর) | ১৭ এপ্রিল, ২০২৬
গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ও শিলাবৃষ্টিতে কৃষিখাত ও জনজীবনে ব্যাপক বিপর্যয় নেমে এসেছে। মাত্র আধা ঘণ্টার ঝড়ে উপজেলার অন্তত এক হাজার কৃষকের ৩০০ হেক্টর জমির বোরো ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ১ হাজার ৮০০ টন ধানের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া ঝড়ে প্রায় ৪০০ বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ৪০টি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।
সরেজমিন আজ শুক্রবার সকালে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের বাপ্তা, বেইলদিয়া ও নান্দিয়া সাঙ্গুন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, বিঘার পর বিঘা বোরো ধান মাটির সাথে মিশে আছে। শিলাবৃষ্টির আঘাতে ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা জানান, তিনটি গ্রামে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত কিষান-কিষানিদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার বিকেলের সেই আধা ঘণ্টার ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে শত শত মানুষের স্বপ্ন। বসতবাড়ির চাল উড়ে গেছে, অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে ঘরের ওপর পড়েছে। এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর সময় কাটাচ্ছেন ৪০টি পরিবারের সদস্যরা। শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সজীব আহমেদ বলেন, "ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য ঢেউটিনসহ ঘর নির্মাণের সার্বিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।"
আজ সকালে ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মাঠ ও জনপদ পরিদর্শন করেছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তিনি বলেন, "ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভাষায় বর্ণনা করার মতো নয়। তিনটি গ্রামের একজন কৃষকও নেই যিনি ক্ষতিগ্রস্ত হননি। শত শত বিঘা জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।" তিনি অবিলম্বে সব দপ্তরের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে দ্রুততার সাথে ত্রাণ ও সহযোগিতা প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছানো হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা জানান, ধান কাটার আগ মুহূর্তে এমন প্রাকৃতিক বিপর্যয় তাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। বোরো ধানের পাশাপাশি শাকসবজির বাগানেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এখন সরকারি সহায়তাই তাদের একমাত্র ভরসা।
শ্রীপুরের এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ঐক্যবদ্ধভাবে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করেছেন।