
আজ আবারো নতুন করে হামলা করতে চাইছে, চুনারুঘাটে সংখ্যালঘুদের পৈতৃক ভু- সম্পত্তি দখলে নিতে মরিয়া ভুমিদস্যুরা
নিজস্ব প্রতিনিধি হবিগঞ্জ :: চুনারুঘাটে পৈতৃক ভু- সম্পত্তি রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছে একটি সংখ্যালঘু পরিবার। তাদের একমাত্র জমিটি দখলে নিতে মরিয়া স্হানীয় ভুমিদস্যুরা। দখল না ছাড়লে হামলা - মামলা ও খুন-খারাপির হুমকিও দিচ্ছে তারা। এ ব্যাপারে চুনারুঘাট থানায় ওসি বরাবর একাধিক বার লিখিত অভিযোগ করেও কোন ফল পাচ্ছেননা ওই নির্যাতিত সংখ্যালঘুরা। ফলে ভীত সন্ত্রন্ত অবস্হায় দিন যাপন করতে হচ্ছে এ সংখ্যালঘু পরিবারের। এ ঘটনায় তারা বর্তমান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার সাঁটিয়াজুরি গ্রামের মৃত রাখাল চন্দ্র সরকারের ছেলে অরবিন্দু সরকার, রবীন্দ্র সরকার, প্রবীন্দ্র সরকার ও দেবেন্দ্র সরকার দীর্ঘকাল ধরে পৈতৃক ভিটেবাড়ী ও সহায় সম্পত্তির ওপর বসবাস এবং ভোগ দখল করে আসছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে একি গ্রামের ভুমিদস্যু আমির হোসেন ও তার ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের ভু-সম্পত্তি আত্মসাতে উঠে পড়ে লেগেছে। নির্যাতিত সংখ্যালঘু রবীন্দ্র সরকার জানান, নতুন বাজার টু চুনারুঘাট সড়কের পাশে রূপনাথপুর মৌজায় ৩ টি দাগে ৫৪ শতক পৈতৃক ভুমি রয়েছে। ওই খতিয়ান ও দাগের মূল রেকড়ীয় মালিক ছিলেন সুরেন্দ্র চন্দ্র সরকারের ছেলে ভুবেন্দ্র চন্দ্র, আমার জেটা, একাধিক ভুয়া মালিক সাজিয়ে খতিয়ান কুনো নাথ ও আশ্রাব উল্লার আর দাগ গুলো রবীন্দ্র সরকারের। কিভাবে সাব রেজিষ্টার অফিসে দলিল লেখক পরেশ সরকার কি ভাবে জমি বিক্রি করে জাল দলিল সৃষ্টি করে দিয়েছে জানিনা। ভুমিখেকো চক্রের হোতা আমির হোসেন গংরা টাকার বিনিময় ১৯৮৫ সালের যে দলিল দিয়ে বর্তমান সেটেলমেন্ট জরিপে মাঠ ও প্রিন্ট পরচা নিয়ে এসিলেন্ট অফিসে নামজারী করে মালিক বনে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে আদালতে সিভিল মামলা করায় ঘটনাটি জানার পর আমরা পক্ষভুক্ত হই। মামলার বাদী আমির হোসেনের বিরুদ্ধে অস্হায়ী নিষেধাজ্ঞা চাইলে আদালত ৭ দিনের মধ্যে কারণ কারণ দর্শানো আর্দেশ দেন। বাদী জবাব না দিয়ে চুনারুঘাট থানার ওসির মৌন অসহযোগিতা আমির হোসেন বাহিনী প্রকাশ্য দখল নিতে চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে, পরে জবাব দেন। বর্তমানে আদালতে আর্দেশের জন্য রয়েছে।
এদিকে ভুমি দখল নিতে ব্যর্থ হয়ে ঘটনাস্হলের আশ পাশে হাট বাজারে প্রকাশ্য হত্যার হুমকি ধামকি দিচ্ছে । সর্বশেষ গত ১৭ জুলাই সকাল বেলা বাঁশ দিয়ে ঘর তৈরি করতে কয়েক শত সন্ত্রাসী এনে মব সৃষ্টি করে এ সময় বার বার ওসি কে ফোনে ঘটনার বিষয়টি জানানো হয়েছে, তিনি আসেননি, পরে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি কে বিষয়টি জানালে তিনি ওসিকে ঘটনাস্থলে পাঠান,তবে ওসি ভুমিকায় স্ংখ্যালঘু পরিবারটি হতাশ হয়েছে, পরে স্হানীয় সংসদ সদস্য এম এস ফয়ছল সাহেব কে জানানো হলে, তিনি এসপি হবিগঞ্জ কে জানাবেন বলে আশ্বস্ত করেন,২২ জুলাই মঙ্গলবার চুনারুঘাট উপজেলা আইন শৃঙ্খল কমিটির সভায় সাঁটিয়াজুরি গ্রামে স্ংখ্যালঘু রবীন্দ্র সরকারের পরিবারের হামলা জমি দখলের চেষ্টা ও প্রকাশ্য দেশত্যাগের হুমকি ঘটনা নিয়ে এমপি সাহেব দীর্ঘ আলোচনা করেছেন বলে জানা গেছে, এদিকে সাঁটিয়াজুরি গ্রামে স্ংখ্যালঘু পরিবারের ওপর আব্যাহত হামলা ও তাদের ভু- সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং পুলিশের ভুমিকা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তজাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনোরিটিস (এইচআরসিবিএম) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কনভেনার এডঃ লাকী বাচার। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, দখলের চেষ্টা বা হামলার সময় পুলিশ কে জানানোর পরও সময় মতো আসেনি,আসলেও সময় কালক্ষেপন করে, ভিকটিক পরিবারের পক্ষে কোন ভুমিকা রাখতেছে না,মামলা নিচ্ছে না, এতে করে গভীর হতাশা ও ক্ষোভ বাড়ছে।