
আফ্রিকা মহাদেশে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার এবং চলমান সংঘাতকে উসকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)-এর বিরুদ্ধে। মিডল ইস্ট আই-এর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ, সোমালিয়ার পুনটল্যান্ড রাজ্যের বোসাসো বিমানবন্দরকে একটি গোপন ট্রানজিট হাব হিসেবে ব্যবহার করে আমিরাত সুদানের বিতর্কিত আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-কে সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। এ কাজে কলম্বিয়ার ভাড়াটে সেনারা ব্যবহৃত হচ্ছে।
বোসাসো বিমানবন্দরে ভারী কার্গো পরিবহনকারী আইএফ-৭৬ বিমান নিয়মিত অবতরণ করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই বিমানগুলোতে আসা সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ দ্রুত অন্য বিমানে স্থানান্তর করে সুদানে পাঠানো হচ্ছে। মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব চালানে রয়েছে চীনা-নির্মিত ড্রোনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র।
বোসাসো বন্দরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, গত দুই বছরে পাঁচ লাখেরও বেশি বিপজ্জনক কন্টেইনার আমিরাতের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। সাধারণ কার্গোর মতো এগুলোর বিস্তারিত বিবরণ নথিভুক্ত করা হয়নি এবং বন্দরে ছবি তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
বোসাসো বিমানবন্দরের উত্তর দিকে একটি সামরিক স্থাপনা রয়েছে, যা কলম্বিয়ার ভাড়াটে সেনাদের জন্য আশ্রয়স্থল। তারা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইটে বোসাসোতে আসে এবং ট্রানজিট হয়ে সুদানে পাড়ি জমায়। ক্যাম্পে একটি হাসপাতালও রয়েছে, যেখানে সুদানে আহত আরএসএফ সৈন্যদের চিকিৎসা দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্র সরকার ২০২৩ সালে ঘোষণা করেছে, আরএসএফ এবং সহযোগী মিলিশিয়ারা সুদানে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ চালাচ্ছে। এ অবস্থায়, সোমালিয়ার মাটি ব্যবহার করে আরএসএফকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি নৈতিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) সুদানের যুদ্ধাপরাধ তদন্ত করছে এবং পুনটল্যান্ড কর্তৃপক্ষ সহযোগী হিসেবে অভিযুক্ত হতে পারে।
চলতি বছরের শুরুর দিকে সুদান ঘোষণা করেছে, আরব আমিরাত পশ্চিম দারফুরে মাসালিত সম্প্রদায়ের গণহত্যায় জড়িত, তারা আরএসএফকে সামরিক, আর্থিক ও রাজনৈতিক সহায়তা দিচ্ছে।
সোমালিয়ার কেন্দ্রীয় সরকার মোগাদিসুর মাধ্যমে আকাশপথ নিয়ন্ত্রণ করলেও বোসাসো বন্দরে কোনো কার্যকর কর্তৃত্ব নেই। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আমিরাতের মূল উদ্দেশ্য হলো সুদানের স্বর্ণখনি দখল, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার। তারা পুনটল্যান্ড, বেরবেরা, মোচা বন্দর ও অন্যান্য অঞ্চলে ঘাঁটি সম্প্রসারণের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করেছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা সতর্ক করেছেন, পুনটল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান এবং নজরদারির অভাব এটিকে আমিরাতের কার্যক্রমের জন্য আদর্শ অপারেশনাল ঘাঁটি বানিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এই অভিযোগ বহুবার অস্বীকার করেছে, এবং সোমালিয়া বা পুনটল্যান্ড কর্তৃপক্ষও কোনো মন্তব্য করেননি।